প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের উৎস খুঁজতে তদন্ত কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে আর্জেন্টিনা। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এপ্রিলে ছড়িয়ে পড়া এই সংক্রমণের উৎস শনাক্তে পশ্চিমাঞ্চলীয় মেন্দোজা প্রদেশেও অনুসন্ধান চালানো হবে। জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে এ খবরটি জানিয়েছে।

হান্টাভাইরাস ইঁদুরবাহিত একটি বিরল রোগ, যার বিভিন্ন ধরন রয়েছে এবং সংক্রমণের তীব্রতাও ভিন্ন হতে পারে। সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবটি অ্যান্ডিজ হান্টাভাইরাস ধরনের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা আর্জেন্টিনা ও চিলির কিছু অঞ্চলে দেখা গেলেও মেন্দোজায় সাধারণত পাওয়া যায় না।

এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে এমভি হন্ডিয়াস নামের একটি প্রমোদতরির সংযোগ পাওয়া গেছে। গত এপ্রিলে আর্জেন্টিনার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর উশুয়াইয়া থেকে যাত্রা শুরু করা জাহাজটিতে অন্তত ১১ জন আক্রান্ত হন এবং তিনজনের মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৮ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত মেন্দোজার মালারগুয়ে শহরে মাঠপর্যায়ের গবেষণা চালাবেন আর্জেন্টিনার সংক্রামক রোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান মালব্রান ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)-এর বিশেষজ্ঞরাও কাজ করবেন।

তদন্তের অংশ হিসেবে গবেষকেরা ইঁদুর ধরে পরীক্ষা করবেন, যাতে সংক্রমণের উৎস শনাক্ত করা যায়। একই সঙ্গে গত মাসে উশুয়াইয়া ও তিয়েরা দেল ফুয়েগো অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা ১০০টির বেশি ইঁদুরের নমুনা পরীক্ষাও চলছে।

তদন্তকারীরা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পথ পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন। বিশেষভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে এক ডাচ দম্পতির গতিবিধির ওপর, যাদের প্রাথমিক আক্রান্তদের মধ্যে ধরা হচ্ছে। জাহাজে ওঠার আগে তারা আর্জেন্টিনা ও চিলি সফর করেছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আক্রান্ত ইঁদুরের মল বা মূত্রের সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে।

যদিও অ্যান্ডিজ হান্টাভাইরাসে মৃত্যুহার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে এবং এর কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, তবুও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতি মহামারির ঝুঁকি তৈরি করছে না।

তবে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, প্রাদুর্ভাবের সুনির্দিষ্ট উৎস হয়তো কখনোই নিশ্চিতভাবে জানা নাও যেতে পারে। তারপরও সংক্রমণের শৃঙ্খল শনাক্ত করা ভবিষ্যৎ প্রতিরোধ ও রোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।