দুই দেশের শক্তি এক হলে বিশ্ব শক্তিতে পরিনত হবে: দীনেশ ত্রিবেদী

ছবি- সংগৃহীত
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী শুক্রবার বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলসীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। বেলা ১১টার দিকে তিনি বাংলাদেশে পৌঁছালে বেনাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারতীয় হাইকমিশন ও বেনাপোল স্থলবন্দরের কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্মিলিত জনসংখ্যা প্রায় ১৬০ কোটি। দুই প্রতিবেশী ও গণতান্ত্রিক দেশের সহযোগিতা জোরদার হলে তা বিশ্বপরিসরে একটি বড় শক্তিতে পরিণত হতে পারে।
সীমান্তে ‘পুশ-ইন’, উত্তেজনা এবং ভিসা ও বাণিজ্য সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “ভারত ও বাংলাদেশ একই আকাশ ও বাতাসের অংশীদার। দুই দেশের মানুষের জন্য যা কল্যাণকর, ভবিষ্যতে সে ধরনের পদক্ষেপই নেওয়া হবে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং পর্যটন ভিসা কার্যক্রমও দ্রুত চালু হবে।
ভারত সরকার ২০২৪ সালের এপ্রিলে সাবেক রেলমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরের সাবেক সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশের ১৮তম হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা-এর স্থলাভিষিক্ত হলেন। বেনাপোল হয়ে ঢাকায় যাওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদী।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
কূটনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের কারণেই তাকে বাংলাদেশে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাভাষী দীনেশ ত্রিবেদী দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন কংগ্রেসের মাধ্যমে। পরে জনতা দলে যোগ দেন এবং ১৯৯০ সালে প্রথমবার রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেস-এ যোগ দিয়ে রাজ্যসভার সদস্য এবং পরে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।
২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি-তে যোগ দেন।
সীমান্ত সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ ইস্যু এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীর দায়িত্ব গ্রহণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ভিসা সহজীকরণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাইমটিভি/কেআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।







