চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় আবু সাঈদ হত্যা মামলার ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রোববার ট্রাইব্যুনাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে গত ৯ এপ্রিল মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী-এর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় প্রদান করেন।

রায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

মামলার শুনানিতে গত ৫ মার্চ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন।

নিহত আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন।

ঘটনার পর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদ-সহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার ৩০ আসামির মধ্যে বর্তমানে ২৪ জন পলাতক রয়েছেন। এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান, সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন মো. মিজানুল ইসলাম এবং গাজী এমএইচ তামীম। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো, আজিজুর রহমান দুলু-সহ আরও কয়েকজন। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সুজাদ মিয়া।

রায় ঘোষণার আগে মামলার প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছিলেন, তদন্তে সন্দেহাতীত ও অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন যে প্রসিকিউশন অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে এবং আসামিরা খালাস পাওয়ার যোগ্য।

আলোচিত এই মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন হলো।

প্রাইমটিভি/কেআর