বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ কমানোর লক্ষ্য সামনে রেখেই নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বিগত সরকারের সময়ে অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ খাতে বিভিন্ন প্রকল্প ও লাইন স্থাপন করা হয়েছিল। উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাবে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে লোডশেডিংয়ের সমস্যা দেখা দেয়।

তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালনে সক্ষমতা থাকলেও বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে অনেক এলাকায় কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি।”

নতুন বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা থেকেই বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে তিনি জানান, আগামী নভেম্বর মাস থেকে কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া শুরু হতে পারে। প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রটি থেকে প্রায় ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন চুক্তি পর্যালোচনার কথাও জানান তিনি। উপদেষ্টা বলেন, “গত সরকারের সময়ে সম্পাদিত বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সব চুক্তি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনি কোনো বাধা না থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ধীরে ধীরে কমছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

প্রাইমটিভি/কেআর