বিপ্লবের প্রতীক চে গুয়েভারার ৯৮তম জন্মবার্ষিকী আজ

ছবি- সংগৃহীত
লাতিন আমেরিকার কিংবদন্তি বিপ্লবী চে গুয়েভারা-র ৯৮তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯২৮ সালের ১৪ জুন রোসারিও শহরে জন্মগ্রহণ করেন ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী এই বিপ্লবী। তাঁর পুরো নাম ছিল আর্নেস্তো গুয়েভারা দে লা সেরনা।
পেশায় চিকিৎসক হলেও চে গুয়েভারা ছিলেন একাধারে বিপ্লবী, গেরিলা নেতা, লেখক, কূটনীতিক ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ। কিউবার বিপ্লবের পর দেশটির জনগণ ভালোবেসে তাকে ‘চে’ নামে অভিহিত করে। স্প্যানিশ ভাষায় ‘চে’ শব্দটি ঘনিষ্ঠ সম্বোধন বা প্রিয়জনকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
১৯৫৫ সালে মেক্সিকো সিটি-তে নির্বাসিত কিউবান বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো এবং রাউল কাস্ত্রো-র সঙ্গে পরিচয় হয় চে গুয়েভারার। এরপর তিনি কাস্ত্রো ভাইদের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী আন্দোলনে যোগ দেন এবং কিউবার তৎকালীন শাসক ফুলহেনসিও বাতিস্তা-কে ক্ষমতাচ্যুত করার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৫৯ সালে কিউবান বিপ্লব সফল হওয়ার পর চে গুয়েভারা নতুন সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কিউবার শিল্পমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তবে কিউবার বিপ্লবেই থেমে থাকেননি চে। বিশ্বজুড়ে বিপ্লবী আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি কিউবা ত্যাগ করেন। প্রথমে কঙ্গো-তে গিয়ে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। পরে বলিভিয়া-তে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ শুরু করেন।
১৯৬৭ সালে বলিভিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত অবস্থায় আটক হন চে গুয়েভারা। পরে লা হিগুয়েরা এলাকায় একটি স্কুলঘরে আটক রেখে তাকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন, ৯ অক্টোবর বলিভিয়ার সেনাবাহিনী তাকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।
মৃত্যুর পরও চে গুয়েভারা বিশ্বজুড়ে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, বিপ্লবী রাজনীতি এবং মুক্তিকামী সংগ্রামের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হন। তাঁর ছবি, বক্তব্য ও আদর্শ এখনও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে।
প্রাইমটিভি/কেআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








