বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে দিল্লির নতুন তৎপরতা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ । সংগৃহীত
ভারত-বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের বিষয়টি নতুন করে খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে ভারত সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন’ সংক্রান্ত মন্তব্যের পর এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২৬ মে বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকারের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে। এক বছরের মধ্যে কমিটিকে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কমিটি সীমান্তবর্তী জেলা ছাড়াও দেশের বড় শহর ও শিল্পাঞ্চলগুলোর জনসংখ্যার ধরণ, অভিবাসন প্রবণতা এবং এর সম্ভাব্য নিরাপত্তাগত প্রভাব পর্যালোচনা করবে।
ভারত সরকারের দাবি, বিষয়টি শুধু জনসংখ্যার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক ভারসাম্য এবং প্রশাসনিক পরিকল্পনার সঙ্গেও সম্পর্কিত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সেখানে কমিটির অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
কমিটির কার্যপরিধিতে রয়েছে ভারত-বাংলাদেশ ও ভারত-পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা, সম্ভাব্য অবৈধ অভিবাসন ও অনুপ্রবেশের অভিযোগ, মহানগর ও শিল্পাঞ্চলে জনসংখ্যার চাপ এবং স্থানীয় সম্পদ ও কর্মসংস্থানের ওপর এর প্রভাব বিশ্লেষণ।
সরেজমিন পরিদর্শনের সময় কমিটি স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তা সংস্থা, জনপ্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে। পাশাপাশি জনগণনার তথ্য, ভোটার তালিকা, অভিবাসন সংক্রান্ত নথি এবং সরকারি বিভিন্ন ডেটাবেসও বিশ্লেষণ করা হবে।
ভারতের বড় শহরগুলোর মধ্যেও দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, নয়ডা, গুরুগ্রাম, আহমেদাবাদ ও পুনে এই গবেষণার আওতায় থাকতে পারে বলে জানা গেছে।
ভারত সরকার বলছে, জনসংখ্যাগত বড় ধরনের পরিবর্তনের কারণ চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জাতীয় স্বার্থ ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, রাজ্য সরকার, নিরাপত্তা সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতও সংগ্রহ করবে কমিটি।
প্রাইমটিভি/এনজি

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









