পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও ‘শত্রু গোয়েন্দা চক্রের’ ব্যবহৃত আস্তানায় বিমান হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান বলে জানিয়েছে কাবুলের তালেবান সরকার। খবরটি প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শুক্রবার (১৮ জুন) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, হামলাগুলো বৃহস্পতিবার রাতে চালানো হয়েছে। এ ঘটনার ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিকবার সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান, যেখানে শত শত মানুষ হতাহত হয়েছে। এখনো চীনের মধ্যস্থতায় স্থায়ী শান্তিচুক্তির কোনো অগ্রগতি হয়নি।

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে অবস্থিত কিছু গোপন আস্তানায় ওই হামলা চালানো হয়। অঞ্চল দুটি আফগান সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।

মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব আস্তানা ‘শত্রুভাবাপন্ন গোয়েন্দা চক্রের’ সহায়তায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগানিস্তান সীমান্তপারের হামলাকারী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে, বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি)। আফগান সরকার অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

কয়েক মাসের মধ্যে এই প্রথম বড় ধরনের বিমান হামলার দায় স্বীকার করল কাবুল। তবে কীভাবে হামলাটি চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের নিজস্ব যুদ্ধবিমান না থাকলেও কয়েকটি বিমান ও হেলিকপ্টার রয়েছে। এছাড়া তালেবান বাহিনীর কাছে ড্রোনও রয়েছে, যা পূর্বে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানা যায়।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় আফগানিস্তানের এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। এর আগে সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এক দফা তীব্র সংঘর্ষে দুই পক্ষই পরস্পরকে হামলার জন্য দায়ী করে। এরপর গত মার্চে স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতিও ভেঙে যায়।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে সীমান্ত সংঘর্ষে শত শত বেসামরিক প্রাণহানি ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চীনের মধ্যস্থতায় একাধিক প্রচেষ্টা চালানো হলেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি।

সবশেষ গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত কয়েকজন নিহত হন বলে দাবি করা হয়। তবে ইসলামাবাদের দাবি, এসব হামলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা নিহত হয়েছে।

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, দেশটি তার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর যেকোনো হুমকি আর সহ্য করবে না এবং প্রয়োজনে উৎসস্থলেই সেই হুমকি নিষ্ক্রিয় করা হবে।

প্রাইমটিভি/এমএইচ