এক যুগের বেশি সময়, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির বিচার এখনো অসমাপ্ত

ছবিঃ প্রতিনিধি
আজ থেকে ঠিক তেরো বছর আগে ২০১৩ সালের এই দিনে (২৪ এপ্রিল) ধসে পড়েছিল সাভারের পোশাক কারখানা রানা প্লাজা। বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় এই শিল্প দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিক। আহত হন আরও প্রায় দুই হাজার শ্রমিক।
রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পার হলেও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত বিচার, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিক নেতারা। এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এক আলোচনাসভা ও শোভাযাত্রা করেছে শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম।
বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এক যুগ পেরিয়ে গেলেও নিহত ও আহত শ্রমিকদের অনেকেই এখনো ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা পাননি। বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং দায়ীদের শাস্তির অভাব শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়িয়েছে।
রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হাজারো প্রাণ হত্যায় অবহেলার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০১৫ সালে ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। ঢাকার জেলা জজ আদালতে মামলাটির বিচার শুরু হয় ২০১৬ তে। যদিও এরপর একের পর এক আসামি, বিচার স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে যাওয়ায় মামলাটির বিচার থমকে থাকে ২০২২ পর্যন্ত। পরে নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে আবারও শুরু হয় মামলার কার্যক্রম।
রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সাক্ষী করা হয় ৫৯৪ জনকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন মাত্র ১৪৫ জন। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত করতে বারবার আদেশ দিলেও সাক্ষী হাজির করতে পারছে না পুলিশ। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, ৬ মাসের মধ্যে মামলা শেষ করতে নির্দেশ দিলে তাতেও কর্ণপাত করেননি সাক্ষী, পুলিশ, বিচারক কেউই।
এদিকে মামলার একমাত্র গ্রেফতার আসামি সোহেল রানার আইনজীবী এখনও মনে করেন রানা নির্দোষ। বলেন, অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে তাকে। এমন নৃশংস ঘটনার বিচার নিয়েও এখন তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আগামী ৩০ এপ্রিল এ মামলায় ফের সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। যদি রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সাক্ষী হাজির করতে পারে তবেই মামলাটি নিষ্পত্তির দিকে এগিয়ে যাবে।

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।







