পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রর যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ

ছবিঃ সংগৃহীত
আজ থেকে পারমাণবিক শক্তির যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এর প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে শুরু হয়েছে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ।
চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের পর শুরু হবে তাপ উৎপাদন। সেই তাপে পানি থেকে তৈরি হবে বাষ্প, ঘুরবে টারবাইন, আর সেখান থেকেই উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাণিজ্যিক উৎপাদনের আগে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হবে। আগামী আগস্টেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ঐতিহাসিক এই কার্যক্রমের উদ্বোধনে উপস্থিত থাকবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা। ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হবেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।
দেশের সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে নির্মাণ করা হচ্ছে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট। বাস্তবায়নে কাজ করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রাশিয়ার রোসাটম। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একবার জ্বালানি প্রবেশ করালে প্রায় ১৮ মাস নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যেতে সময় লাগতে পারে প্রায় এক বছর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ একদিকে যেমন দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী, তেমনি পরিবেশবান্ধবও। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই থাকছে। সব বাধা পেরিয়ে অবশেষে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এগোচ্ছে রূপপুর। এখন অপেক্ষা, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের।

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।




