পাবনার ঈশ্বরদীতে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে আজ শুরু হতে যাচ্ছে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে যুক্ত হচ্ছে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় নতুনভাবে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা এক হাজার দুইশ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে আজ ইউরেনিয়াম জ্বালানি স্থাপন করা হবে। এই চুল্লিতে মোট একশ তেষট্টি টি ইউরেনিয়াম বান্ডেল ব্যবহৃত হবে। প্রতিটি বান্ডেলে থাকে পনেরোটি করে ইউরেনিয়াম রড। এর মধ্যে পাঁচটি বান্ডেল সংরক্ষণে রাখা হয়েছে। জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হতে সময় লাগবে প্রায় চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ দিন। এরপর ধাপে ধাপে শুরু হবে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা। সব কিছু সফলভাবে সম্পন্ন হলে কয়েক মাসের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একবার জ্বালানি লোড করার পর এই কেন্দ্র টানা প্রায় দেড় বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী এক তৃতীয়াংশ করে জ্বালানি পরিবর্তন করা হবে। কেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ষাট বছর। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে তা নব্বই বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ ছয় টাকা ধরা হলেও অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী তা এখন প্রায় বারো টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।

পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন তাপ থেকে পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়ে টারবাইন ঘুরাবে, আর সেই ঘূর্ণন থেকেই উৎপন্ন হবে বিদ্যুৎ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় একটি বড় অগ্রগতি।