শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক লড়াইকে স্মরণ করে আজ শুক্রবার (১ মে) বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস। ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশেও দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আজ সকাল ১০টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

এদিকে, মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল একটি শ্রমিক সমাবেশের আয়োজন করেছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন বলে জানিয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সমাবেশে লক্ষাধিক শ্রমজীবী মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে আয়োজকরা।

বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে ১ মে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। বাংলাদেশেও এ দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

মহান মে দিবসের ইতিহাসের সূচনা ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমিকদের আন্দোলনের মাধ্যমে। সে সময় দৈনিক ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা কাজের বিরুদ্ধে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন। ১ মে শুরু হওয়া সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৪ মে হে মার্কেট এলাকায় সংঘর্ষ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যেখানে হতাহতের ঘটনা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে শ্রমিক নেতাদের বিতর্কিত বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তা আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

১৮৮৯ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে-কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই থেকে দিনটি বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও মানবিক কর্মপরিবেশের দাবির প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।