ইসলাম শান্তির ধর্ম। আর এই ধর্মে মানুষের জীবনে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসা প্রতিষ্ঠার জন্য দিয়েছে অনন্য দিকনির্দেশনা।

আর সেই দিকনির্দেশনার অন্যতম প্রধান একটি অংশ হলো সালাম। আসসালামু আলাইকুম অর্থ আপনার ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। ইসলামে সালামের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। এটি শুধু একটি অভিবাদন নয়, বরং এক মুসলমানের পক্ষ থেকে আরেক মুসলমানের জন্য আন্তরিক দোয়া।

ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মানুষ হজরত আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তাআলা নিজেই সালাম শিক্ষা দেন। এরপর থেকে যুগে যুগে সালাম হয়ে উঠেছে মুসলিম সমাজের পরিচয় ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, অন্যের ঘরে প্রবেশের আগে অনুমতি নেওয়া এবং সালাম দেওয়া আবশ্যক। এতে পারস্পরিক সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

হাদিসে এসেছে, যখন দুই মুসলমান একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সালাম ও করমর্দন করে, তখন আলাদা হওয়ার আগেই তাদের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে দূর হয় হিংসা বিদ্বেষ, সৃষ্টি হয় ভালোবাসা ও সম্প্রীতি।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না পরস্পরকে ভালোবাসবে। আর ভালোবাসা সৃষ্টি করার সহজ উপায় হলো বেশি বেশি সালাম বিনিময় করা। সালামের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর প্রতিদান। কেউ যদি আসসালামু আলাইকুম বলে, তার জবাব দেওয়া ওয়াজিব। বরং উত্তম জবাব দেওয়াই শ্রেয়।

হাদিসে আরও বলা হয়েছে, যে আগে সালাম দেয় সে অহংকার থেকে মুক্ত থাকে এবং আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় হয়ে ওঠে। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সালাম দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে, যেমন নামাজরত ব্যক্তি, কোরআন তিলাওয়াতকারী বা গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত কেউ।

সালাম শুধু মুখের কথা নয়, এটি মানুষের মধ্যে দয়া, মায়া, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করতে সালামের বিকল্প নেই। তাই আমাদের উচিত পরিচিত অপরিচিত সবার সঙ্গে বেশি বেশি সালাম বিনিময় করা। এর মাধ্যমে গড়ে উঠবে একটি শান্তিপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সালামের এই সুন্দর আমলটি যথাযথভাবে পালন করার তওফিক দান করুন।