ফিলিস্তিনের গাজা সংকট, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার মতো বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা সংকট যেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব হারিয়ে না ফেলে—সে বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দফতরে জাতিসংঘ-এর শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বর্তমান পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি তাদের আর্থিক সহায়তা প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়ন ও মৌলিক চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানো জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৈঠকে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি জানান, সীমিত জায়গায় বিপুল সংখ্যক মানুষের বসবাসের কারণে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় শিবিরের আয়তন বাড়ানো সহজ নয়। তিনি এ সংকটের টেকসই সমাধান হিসেবে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাতের শুরুতে ইভো ফ্রেইসেন নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি আগামী ২০ মে অনুষ্ঠিতব্য রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ক ‘জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান’ (জেআরপি) উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।