নেত্রকোণায় স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক ও নির্যাতনের মামলায় জাকির আহমেদ (৩৮) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ৩০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং তালাকের হুমকির অভিযোগে করা এই মামলায় বুধবার (৬ মে) সকালে তার জামিন নামঞ্জুর করা হয়।

নেত্রকোণা অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহসিনা ইসলাম উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অভিযুক্ত জাকির আহমেদ বারহাট্টা উপজেলার ইসপিন্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে কলমাকান্দা উপজেলার সোনালী ব্যাংক শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে সদর উপজেলার কুরপাড় এলাকার মাহফুজা নাসরিন মুন্নীর সঙ্গে জাকিরের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মোটা অঙ্কের উপঢৌকন দিলেও বিয়ের পর থেকেই ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার অজুহাতে স্ত্রীর পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবি করে আসছিলেন জাকির। এই টাকা না পেয়ে তিনি মুন্নীর ওপর দীর্ঘকাল ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীকে তার বাবার বাড়িতে রেখে আসার পর থেকে তিনি আর কোনো খোঁজখবর নেননি। ভুক্তভোগী দম্পতির সাত বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে, যে বর্তমানে গুরুতর চোখের রোগে আক্রান্ত।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল তালুকদার জানান, স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে এবং পুনরায় যৌতুক দাবি ও তালাকের হুমকি দেওয়ায় গত বছর যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। যদিও জাকির আহমেদ তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘মিথ্যা মামলা’ বলে দাবি করেছেন।

এদিকে, সোনালী ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ব্যাংক বিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা ফৌজদারি মামলায় কারাবরণ করলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেন না। এই ঘটনায় ব্যাংকিং মহলেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।