নিজ বাসায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ হারুনুর রশিদ খান। দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর ওই বছরের ৩১ মে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনায় নিহতের ছেলে আমানুর রশিদ খান বাদী হয়ে শিবপুর মডেল থানায় আরিফ সরকারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই (PBI) নরসিংদী। ইতিপূর্বে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাই থেকে 'মহসীন' নামে আরেক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়, যার স্বীকারোক্তিতে এই হত্যাকাণ্ডে আরিফ সরকারের সক্রিয় পরিকল্পনা ও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।

আরিফ সরকার দুবাই পালিয়ে যাওয়ায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পিবিআই-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে ইন্টারপোল 'রেড নোটিশ' জারি করে। গত ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে পিবিআই আরিফ সরকারসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করে।

ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ আরিফ সরকারকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ পুলিশকে বার্তা পাঠায়। এরপর পিবিআই এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের একটি বিশেষ দল দুবাই গিয়ে তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। হযরত শাহজালাল (রাঃ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে শিবপুর থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়। অবশেষে ৬ মে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

বিদেশে পালিয়ে থাকা অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এটি পিবিআই ও বাংলাদেশ পুলিশের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।