চট্টগ্রাম-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই। বুধবার সকাল ১০টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বড় ছেলে সাবেদুর রহমান। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তাঁর বাবা। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিজ গ্রামেই দাফন করা হবে সাবেক এই মন্ত্রীকে। পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরে জানানো হবে জানাজার ও দাফনের সময়সূচি।

প্রকৌশলবিদ্যায় পড়াশোনা করা মোশাররফ হোসেন ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও শিল্পোদ্যোক্তা। চট্টগ্রামের মিরসরাই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বর্ষীয়ান এই নেতা।

রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা আইনি জটিলতারও মুখোমুখি হন মোশাররফ হোসেন। ২০২২ সালের পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে আরও কয়েকটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সব মামলায় জামিন পেয়ে ২০২৫ সালের আগস্টে কারামুক্ত হন তিনি। এরপর থেকে শ্বাসতন্ত্রের জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রাইমটিভি/এনজি