চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

আহত ব্যক্তির নাম জাকারিয়া হাসান জিলহান। তিনি সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি। শনিবার রাত সোয়া আটটার দিকে নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পুরোনো ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এলাকায় তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

পরিবার ও চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের ৯ থেকে ১০টি কোপের আঘাত রয়েছে। গুরুতর রক্তক্ষরণে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন বলেন, “আহতকে মারাত্মকভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। ক্ষত এতটাই গভীর ছিল যে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।”

পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোবাইল ফোনে কথা বলে আহত জিলহান অভিযোগ করেন, তাঁর ওপর হামলা করেছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ সাইমন। তাঁর সঙ্গে ঘটনাস্থলে সাইমনের ভাই কাজী মোহাম্মদ বাবলুও উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি জানান, ফোনে ডেকে নেওয়ার পর বাড়ির কাছের এলাকায় গেলে হঠাৎ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে আহত করা হয়।

তবে অভিযুক্ত কাজী মোহাম্মদ সাইমন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয় এবং ভুক্তভোগী ব্যক্তি কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রাথমিকভাবে পূর্ববিরোধের জেরে হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে, তবে এখনো কেউ আটক হয়নি।

প্রাইমটিভি/কেআর