কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধর্মপুর কালিয়াটারি গ্রামে চীনের এক নাগরিকের আগমনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশি জামাইকে এক নজর দেখতে গত দুই দিন ধরে ভিড় করছেন শত শত উৎসুক মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।

রোববার (১৭ মে) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ধর্মপুর এলাকার মৃত মোফাজ্জল হোসেন ও শাহেরা বেগম দম্পতির মেয়ে মোর্শেদা বেগম (২৫) দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার সাভারে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ব্যবসায়িক কাজে বাংলাদেশে আসা চীনা নাগরিক আন হংওয়েইয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে তার পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক।

পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে গত ৯ এপ্রিল আদালতের মাধ্যমে কোর্ট ম্যারেজ এবং ২০ এপ্রিল পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বর্তমানে মোর্শেদা বেগম তার চীনা স্বামীকে নিয়ে মামা শহিদুল ইসলামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। বিয়ের পর গত শুক্রবার প্রথমবারের মতো স্বামীকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন তিনি। এ সময় আন হংওয়েই নিজেকে চীনের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিলে খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তাকে দেখতে ভিড় করছেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, আন হংওয়েইয়ের কাছে পাসপোর্ট, ভিসাসহ প্রয়োজনীয় সব বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তিনি চীনের শানডং প্রদেশের দাতুন টাউনের ঝাওঝেনতুন গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা আন জিফাং ও মা মেং ফেংজিয়াও। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

মোর্শেদা বেগম বলেন, “জীবিকার তাগিদে আমি দীর্ঘদিন ঢাকায় থাকি। গত ৩ এপ্রিল মোবাইল ফোনে আমাদের পরিচয় হয়। পরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অল্প দিনের ভালোবাসাতেই সে আমাকে বিয়ে করেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৩০ মে আমরা চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছি।”

তিনি আরও জানান, এর আগে তার একটি বিয়ে হয়েছিল এবং সেই সংসারে একটি সন্তানও রয়েছে। তবে কয়েক বছর আগে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।

চীনা নাগরিক আন হংওয়েই বলেন, “বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কাজে এসে মোর্শেদার সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে আমরা একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি। আমি তাকে নিয়ে চীনে সুন্দরভাবে সংসার করতে চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, “চীনের যুবককে দেখতে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তারা সুখে-শান্তিতে সংসার করুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

ধর্মপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফেরদৌস আলম জানান, তারা আইনগতভাবেই বিয়ে করেছেন। কাবিননামাও দেখা হয়েছে। বর্তমানে বিদেশি জামাইকে নিয়ে গ্রাম ঘুরে দেখাচ্ছেন পরিবার।

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।”

প্রাইমটিভি/কেআর