ফরিদপুরের চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালীতলা এলাকায় মা ও পাঁচ বছরের শিশুকন্যা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ও বিয়ের চাপকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম জানান, তিন বছর আগে ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারা আক্তার ও উজ্জলের পরিচয় হয়। একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে, যা পরে পরকীয়া সম্পর্কে রূপ নেয়।

পুলিশ জানায়, পরে বিষয়টি জানাজানি হলে দুজনই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান। তবে গোপনে তাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। একপর্যায়ে উজ্জল জাহানারাকে বিয়ের আশ্বাস দিলেও পরে তা এড়িয়ে যেতে থাকেন।

গত ৪ মে জাহানারা তার পাঁচ বছরের মেয়ে সামিয়াকে নিয়ে উজ্জলের সঙ্গে দেখা করতে যান ফরিদপুর সদরের কালীতলা এলাকায়। সেখানে বিয়ে নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, জাহানারা বিয়ে না হলে উজ্জলের বাড়িতে গিয়ে থাকার হুমকি দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এরপর রাতে উজ্জল জাহানারার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে অচেতন করেন এবং পরে গলা টিপে হত্যা করেন। একইভাবে শিশু সামিয়াকেও গলা টিপে হত্যা করা হয় বলে জানায় পুলিশ। পরে মরদেহ দুটি পুকুরপাড়ে মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখা হয়।

ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার নিহত জাহানারার বাবা লালন মোল্লা অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত উজ্জলকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। জবানবন্দি না দিলে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হবে বলেও জানিয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তা।

প্রাইমটিভি/এনজি