মদপানের পর তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

প্রতীকী ছবি
বগুড়ায় মদপানের পর এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৮ মে) সকালে নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী নিজেই বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
এর আগে, গত রবিবার (১৭ মে) রাতে বগুড়া মহানগরীর ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়া এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে এই নৃশংস ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন: মো. কাওসার (১৯), বাঁধন পাইকার (১৯), মো. রকি (১৯)
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই তরুণীর বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায়। মামলার আসামিদের সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল।
রবিবার রাত ৮টার দিকে ওই তরুণী বগুড়া শহরের ‘পুলিশ প্লাজা’র ৭ম তলায় ‘লাক জোন’ নামের একটি দোকানে যান। সেখানে আগে থেকেই কাওসার, বাঁধন, সাদিকসহ আরও একজন অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে তারা সবাই মিলে মদপানের পরিকল্পনা করেন এবং স্থানীয় একটি হোটেল থেকে মদ সংগ্রহ করেন।
পরবর্তীতে রাত সোয়া ১০টার দিকে তারা ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন শ্মশান ঘাট রাস্তার পাশে একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে যান। সেখানে রনি নামের আরেক যুবক তাদের সাথে যোগ দেন। মদপানের একপর্যায়ে আসামিরা সবাই মিলে ওই তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।
ধর্ষণের পর গভীর রাতে অভিযুক্ত বাঁধন পাইকার ওই তরুণীকে ঘটনাস্থল থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তারা শহরের শিববাটি এলাকার ‘বিগ বাজার’ এর সামনে পৌঁছালে তরুণীটি চিৎকার করে পথচারীদের কাছে সাহায্য চান। তরুণীর চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ এগিয়ে আসলে বাঁধন কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
"নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী সোমবার সকালে ৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবারই তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়া ভুক্তভোগী তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।"
প্রাইমটিভি/কেআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।




