কিশোরগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিএফ চাল আত্মসাৎ ও সরকারি জমি দখলের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দি । ছবিঃ প্রাইম টিভি
কিশোরগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমি দখল, জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম স্থবির রাখা এবং ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান হলেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর কিশোরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ বাজার এলাকায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস জমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন ইউপি চেয়ারম্যান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার দখলমুক্তের চেষ্টা চালানো হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ইউনিয়নে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রত্যাশীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরি করে আসছিলেন।
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু হিন্দুদের জমি দখল, মাদক সংশ্লিষ্টতা এবং বিদেশে লোক পাঠানোর নামে ভিসা জালিয়াতি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

অন্যদিকে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারের বরাদ্দ অনুযায়ী কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৩ হাজার ৬২৪টি দুস্থ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ৬ থেকে ৭ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন উপকারভোগীরা।
চাল কম দেওয়ার প্রতিবাদে উপকারভোগীরা ইউএনও কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় প্রতিবাদকারী কয়েকজন ইউপি সদস্যকে গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগও ওঠে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এজারুল হক বগা বলেন, কোনো নীতিমালা অনুসরণ না করে চেয়ারম্যান গায়ের জোরে চাল বিতরণ করছেন। প্রতিবাদ করায় তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। একই অভিযোগ করেন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল কুদ্দুস।
উপকারভোগী লালবী বেগম, হামিজা বেগম ও আবুল হোসেন জানান, ১০ কেজির পরিবর্তে ৬ থেকে ৭ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে এবং মেপে তারা তা নিশ্চিত হয়েছেন।
এছাড়া ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হাট-বাজার উন্নয়ন খাতের প্রায় ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয়ে খাস জমিতে পুকুর খনন ও সংস্কার করে তা ব্যক্তিগত দখলে রাখার অভিযোগও রয়েছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে চেয়ারম্যানের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
প্রাইমটিভি/এনজি

জেলা প্রতিনিধি
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।




