আনসার ও ভিডিপি প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক বাহিনীতে পরিণত হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবিঃ সংগৃহীত
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ভবিষ্যতে একটি “প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক সামাজিক বাহিনী” হিসেবে গড়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার সকালে আনসার ভিডিপি একাডেমি এ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনাদের নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং গভীর দেশপ্রেমের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক সামাজিক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।”
সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে বাহিনীর আধুনিকায়ন ও কাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘আনসার ব্যাটালিয়ন বিধিমালা ২০২৬’, ‘ভিডিপি প্রবিধানমালা ২০২৬’, ‘অঙ্গীভূত আনসার বিধিমালা ২০২৬’ এবং ‘আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য নিয়োগ ও পদোন্নতি বিধিমালা ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম জোরদারে ‘উপজেলা আনসার প্রবিধানমালা ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বাহিনীর সদর দপ্তরে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে আনসার বাহিনীর অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৪০ হাজার রাইফেল নিয়ে আনসার সদস্যরা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং ৬৭০ জন সদস্য শহীদ হন। তাদের অবদান জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দূরদর্শী পদক্ষেপের মাধ্যমেই আনসার ও ভিডিপি আজকের বহুমাত্রিক ও জনসম্পৃক্ত বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।
একইসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের সময়ে ১৯৯৫ সালে প্রণীত আনসার-ভিডিপি আইনকে বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন থানা পাহারা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিতে আনসার ও ভিডিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও আনসার-ভিডিপি সদস্যরা সক্রিয় অবদান রাখছে।”
বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘চেইন অব কমান্ড’ ও ‘ডিসিপ্লিন’। এ দুই বিষয়ে সামান্য অবহেলাও বাহিনীর প্রতি জনআস্থায় সংকট তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, থানা ও উপজেলা আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপির সমন্বিত কার্যক্রম দেশের নিরাপত্তা ও তৃণমূলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আনসার-ভিডিপি কাজ করছে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন মোকাবিলা, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষাতেও বাহিনীটির ভূমিকা প্রশংসনীয়।
মানবসম্পদ উন্নয়নের অংশ হিসেবে জাপানি ভাষা শিক্ষা, ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল মার্কেটিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ দেশে ও বিদেশে বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও বাড়াবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আনসার-ভিডিপিকে একটি নির্ভরযোগ্য ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্যা ও অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে বাহিনীর সাহসিকতা ও মানবিক দায়িত্ববোধ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে আনসার-ভিডিপির সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম বাংলাদেশ গেমসে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাহিনীটি ২০০৪ সালে স্বাধীনতা পদক অর্জন করে। এছাড়া দেশের ১০টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩৭৯ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এটিএম শামসুল ইসলাম এবং ওয়াকার-উজ-জামানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী একাডেমির বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এসময় তাঁত ও বুনন শিল্প, মৃৎশিল্প, গবাদিপশু খামার এবং জাপানি ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি।
প্রাইমটিভি/এনজি

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।




