জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় সোহেলী তামান্না হত্যা চেষ্টা মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন-এর মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন বিথীকে ফের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক মো. আমিনুর রহমান আসামিকে আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন শুনানিতে বলেন, মামলার সঙ্গে আসামির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। এ সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

শুনানির সময় বিচারকের উদ্দেশে খাদিজা ইয়াসমিন বিথী বলেন, “এর চেয়ে আমাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলেন। আমার বাচ্চা আছে। বারবার মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি চাকরি করে চলি। এত টাকা কোথায় পাবো?”

তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। শুধুমাত্র বাবার কারণে আমাকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হচ্ছে। আমার ১৩ বছরের একটি মেয়ে আছে। আমি আগেও একটি মামলায় জামিন পেয়েছিলাম। পরে আবার সাজানো মামলা দেওয়া হয়। আমি সেদিন বাবাকে দেখতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকেই আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়।”

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভাটারা থানাধীন প্রগতি সরণি এলাকায় কোটা আন্দোলনের সমর্থনে বের হওয়া মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়, আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র হামলায় সোহেলী তামান্না গুরুতর আহত হন। গুলিবর্ষণ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার বাম হাতের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সোহেলী তামান্না বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, খাদিজা ইয়াসমিন বিথীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া তিনি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হয়ে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটাতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রাইমটিভি/কেআর