রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন জাতীয় জাগরণের তূর্যবাদক ও বাঙালির সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের রূপকার। তিনি আমরণ শোষিত, নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। এ কারণেই তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সাম্য, মানবতা, দ্রোহ ও প্রেমের কবি নজরুল বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। তিনি একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক ছিলেন। তার সৃজনশীল কর্ম শুধু বাংলা সাহিত্য নয়, বিশ্ব সাহিত্যেও বিরল অবদান হিসেবে স্বীকৃত।

তিনি আরও বলেন, নজরুলের কালজয়ী সাহিত্য ও সংগীত ধর্ম-বর্ণের গণ্ডি পেরিয়ে মানবতার জয়গান গেয়েছে। কুসংস্কার, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার লেখনী সবসময় ছিল সোচ্চার।

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, নজরুলের অগ্নিঝরা কবিতা ও প্রেরণাদায়ী গান ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নজরুলের আদর্শ ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশপ্রেম, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বাণীর শেষে রাষ্ট্রপতি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

প্রাইমটিভি/কেআর