পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাঙ্গামাটি রিজিয়নের জুরাছড়ি জোনের উদ্যোগে রোববার (২৪ মে) সকালে জোন সদরে এক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কার্যক্রমে অসহায়, দুস্থ, দরিদ্র ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হতদরিদ্র, অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পারিবারিক প্রয়োজন, চিকিৎসা ব্যয় এবং পুনর্বাসনের বিষয় বিবেচনায় মোট ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুরাছড়ি জোনের ভারপ্রাপ্ত জোন অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ মুশফাক আমিন চৌধুরী, পিএসসি। এ সময় জোনের অন্যান্য স্টাফ অফিসার, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে এক আন্তরিক ও মানবিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের সমস্যার কথা শোনেন।

দুর্গম এলাকার উপকারভোগীদের মধ্যে চিত্তিময় চাকমা, সুমী আক্তার, টুত্তুরী চাকমা, মনোনীতা চাকমা, গরিকা চাকমা, মিন্টি চাকমা, কৃষ্ণলতা চাকমা, চঞ্চলা চাকমা, অনিল বরন চাকমা, সুনিল চাকমা এবং ফারুক হোসেনসহ আরও অনেকে এ সহায়তা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি এলাকার শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমতলী প্রাইমারি স্কুলকেও বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত জোন অধিনায়ক বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নয়, মানবকল্যাণেও সর্বদা নিবেদিত। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে জুরাছড়ি জোন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

উপকারভোগীরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগের জন্য রাঙ্গামাটি রিজিয়ন এবং জুরাছড়ি জোনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে এ ধরনের সহায়তা শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং নতুন করে বেঁচে থাকার প্রেরণা জোগায়।

উল্লেখ্য, অপারেশন উত্তরণের আওতায় রাঙ্গামাটি রিজিয়নের অধীন জুরাছড়ি জোন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মানবিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, শীতবস্ত্র বিতরণ, শিক্ষা উপকরণ সহায়তা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতা এবং দুর্যোগকালীন সহায়তা উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও জনআস্থার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

প্রাইমটিভি/এনজি