দেশের ছয় জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৬ মে) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টাঙ্গাইল, বগুড়া, কিশোরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও গোপালগঞ্জে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

টাঙ্গাইলে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হন। সোমবার (২৬ মে) ভোরে ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতি উপজেলার সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই ট্রাকে করে ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিলেন। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঘটনাস্থলেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বগুড়ায় পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হন। বগুড়া নওগাঁ মহাসড়কের কাহালু এলাকায় বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে মা ও মেয়ে নিহত হন। একই দিনে শাজাহানপুর উপজেলায় অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও তার চার বছর বয়সী মেয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন নারী, যিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে পিকআপভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা স্বামী, স্ত্রী ও তাদের ছয় বছরের সন্তান নিহত হন। সন্ধ্যায় ইটনা মিঠামইন অষ্টগ্রাম সড়কের কাস্তল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সড়ক পারাপারের সময় এবং যানবাহনের ধাক্কায় শিশু ও এক কিশোরসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। পুলিশ জানায়, ঘাতক যানবাহন আটক করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জে মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে একজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মাইক্রোবাস চালক নিহত হন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ঢাকা খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ ছিল।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, প্রতিটি দুর্ঘটনায় পৃথক তদন্ত চলছে। একদিনে একাধিক জেলায় প্রাণহানির এই ঘটনায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রাইমটিভি/এনজি