গোপালগঞ্জে ২০ টাকার লোভ দেখিয়ে সাত বছর বয়সী প্রথম শ্রেণীর এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শফিকুল মোল্লা (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৯ মে) রাতে গোপালগঞ্জ শহরতলীর বিসিক শিল্প নগরীর ‘মধুমতি বেকারি’র দোতলায় এই অমানবিক ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার শফিকুল মোল্লা বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলার ভান্ডারখোলা গ্রামের মোঃ সিদ্দিক মোল্লার ছেলে। সে ‘মধুমতি বেকারি’র একজন কর্মচারী।

বলাৎকারের শিকার শিশুটি শহরের মৌলভী পাড়া এলাকার এক সৌদি প্রবাসীর ছেলে। সে স্থানীয় এস কে আলিয়া মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণীর ছাত্র।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৩০ মে) সন্ধ্যার পর শিশুটি তার বাসার কাছাকাছি থানাপাড়া এলাকায় দাদার বাসায় যাচ্ছিল। পথে বিসিক ব্রিজের ওপর থেকে তাকে টাকা ও খাবারের লোভ দেখিয়ে ডেকে নেয় শফিকুল।

পরে মধুমতি বেকারির দোতলায় নিয়ে তাকে বলাৎকার করা হয়। এসময় শিশুটি চিৎকার করতে গেলে শফিকুল তার মুখে বালিশ চাপা দিয়ে নির্যাতন চালায়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় জনতা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত শফিকুলকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে তাদের হেফাজতে নেয়।

পরবর্তীতে অসুস্থ অবস্থায় ভিকটিম শিশুকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ জানান “সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত শফিকুলকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং অভিযুক্ত যুবক অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। ভিকটিম শিশুকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করে আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”

এদিকে নির্যাতিত শিশুটির মা এই অমানবিক ও নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত শফিকুলের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

প্রাইমটিভি/এনজি