ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’, ‘চা-চপ-সিগারেট বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং শিক্ষকদের গবেষণাকে ‘প্লেজারাইজড’ আখ্যা দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

শনিবার ( ৩০ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ডাকসু নেতারা বলেন, একটি দায়িত্বশীল সাংবিধানিক পদে থেকে এ ধরনের সাধারণীকরণ ও অবমাননাকর মন্তব্য শুধু অনাকাঙ্ক্ষিতই নয়, বরং দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে হেয় প্রতিপন্ন করার শামিল। তারা প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন, বাস্তবতা বিবর্জিত এবং অসদুদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে নেতিবাচকভাবে মুখোমুখি দাঁড় করানো অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। গবেষণা ও একাডেমিক উৎকর্ষ নিয়ে প্রকৃত উদ্বেগ থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

ডাকসু দাবি করে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ, দলীয়করণ এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একই সঙ্গে গবেষণা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও আধুনিক অবকাঠামোর অভাবও উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। গবেষণা প্রকাশনা, একাডেমিক বৈচিত্র্য ও সামাজিক অবদানের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনও দেশের অন্যতম প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে ডাকসু নেতারা বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাই ‘সরকারি টাকা নষ্ট করে ভাঙচুর’ ধরনের মন্তব্য সেই ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে অপমান করার শামিল।

বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রীকে ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, দলীয়করণ বন্ধ, মেধাভিত্তিক প্রশাসনিক নিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।