স্যাটেলাইট চিত্র ও ভিডিও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে জানা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২০টি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এই হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান ও লেবাননে চালানো অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে ইরান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ইরাক, জর্ডান, বাহরাইন ও ওমানসহ অন্তত আটটি দেশের মার্কিন ও যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করা হয়েছে। এতে আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রিফুয়েলিং বিমান ও রাডার সিস্টেমে কোটি কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (টিএইচএএডি) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার প্রতিটি ইউনিটের মূল্য প্রায় এক বিলিয়ন ডলার এবং এগুলো পরিচালনায় শতাধিক সেনা প্রয়োজন। এছাড়া সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে নজরদারি বিমান ও রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফটেও ক্ষতি হয়েছে বলে স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তথ্য সীমিত রাখার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘প্ল্যানেট’ ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অঞ্চলের নতুন ছবি প্রকাশে সাময়িক সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হামলার ধরন সময়ের সঙ্গে বদলেছে। প্রাথমিকভাবে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এখন আরও নির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ চালানো হচ্ছে, যা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোতে কার্যকর ক্ষতি করতে সক্ষম হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মধ্যপ্রাচ্য আর নিরাপদ থাকবে না এবং তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলো ক্রমেই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বহু বিমান ও প্রতিরক্ষা সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং পুনর্গঠন ও প্রতিস্থাপন ব্যয় বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে এই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

প্রাইমটিভি/এনজি