সিরাজগঞ্জে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে ঈদের দিন এক কলেজছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে তর্কের পাশাপাশি একটি সেলুনে চুল কাটাকে কেন্দ্র করেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।

গত ২৮ মে ঈদের দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের ছোনগাছা বাজার সংলগ্ন চামেলী মোড় এলাকায় একটি টং দোকানের সামনে পূর্ব বিরোধের জেরে কলেজছাত্র শাকিলকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই রহমত উল্লাহ বাদী হয়ে ২৯ মে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একাধিক টিম তদন্তে নামে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার কয়েকদিন আগে ছোনগাছা বাজার এলাকায় দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে অভিযুক্ত রাকিবের সঙ্গে নিহত শাকিল ও তার বন্ধুদের কথা কাটাকাটি হয়। এরপর ঘটনার তিন থেকে চার দিন আগে একটি সেলুনে চুল কাটাকে কেন্দ্র করে অপর দুই আসামি শাকিল ও সাব্বিরের সঙ্গে নিহতের ঝগড়া হয়। ওই সময় রাকিব ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। এসব ঘটনার জের ধরেই ঈদের দিন হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

প্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল অভিযুক্ত মো. রাকিবকে কক্সবাজারের চকরিয়া থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম অ্যান্ড অপস মো. হাফিজুর রহমান জানান, ঈদের দিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করা হয়। সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম সমন্বিতভাবে কাজ করে। একপর্যায়ে কক্সবাজার থেকে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। মূলত দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে সৃষ্ট পূর্ব বিরোধ থেকেই এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজগঞ্জ সদর সার্কেল নাজরান রউফ, সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসানসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

প্রাইমটিভি/এনজি