নিজেকে ৪০০ বছর বয়সী ‘জ্বিনের বাদশা’ পরিচয় দিয়ে অলৌকিক ক্ষমতার গল্প ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতেন তিনি। দাবি করতেন, জ্বিনের সাহায্যে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন, ব্যবসায় উন্নতি, পারিবারিক সমস্যার সমাধান এমনকি গুপ্তধনের সন্ধানও দিতে পারেন। এসব প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে অন্তত ১০০ জন মানুষের কাছ থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন এক প্রতারক।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন মো. আব্দুল হামিদ (৩৩)। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠে আসছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আব্দুল হামিদ প্রথমে নিজেকে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী এবং ‘৪০০ বছরের জ্বিনের বাদশা’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। পরে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপ ও বিনিয়োগ প্রকল্পে অর্থ লগ্নি করতে উৎসাহিত করতেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) সিরাজগঞ্জ সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিরাজগঞ্জ সদর সার্কেল) নাজরান রউফ জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রতারণার একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, তিনি নানা প্রলোভন ও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কান্দাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোসাঃ মমতাজ বেগম (৩১) গত ১ জুন সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় তিন মাস আগে আব্দুল হামিদ তার অফিসে গিয়ে ‘ইকো ভোল্ট’ নামের একটি সোলার প্যানেলভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের অ্যাপে বিনিয়োগ করলে অল্প সময়ে অধিক লাভ পাওয়া যাবে বলে প্রচার করেন। তার কথায় বিশ্বাস করে প্রায় ১০০ জন গ্রাহক বিনিয়োগ করেন। পরে অভিযুক্ত বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকা সংগ্রহ করে আত্মসাৎ করেন।

পরবর্তীতে তিনি ‘সিইএফ’ (CEF) নামের আরেকটি অ্যাপে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন এবং নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে আরও প্রায় ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। একপর্যায়ে ‘ইকো ভোল্ট’ অ্যাপটি অকার্যকর হয়ে যায় এবং গ্রাহকরা তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থের কোনো হিসাব পাননি। এরপর নতুন করে অধিক লাভের আশ্বাস দিয়ে আরও ৪ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়।

সব মিলিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পুলিশ জানিয়েছে, ধর্মীয় বিশ্বাস, অলৌকিক ক্ষমতা কিংবা দ্রুত লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে, গ্রেফতারের খবরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আত্মসাৎ হওয়া অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে প্রতারণার শিকার আরও ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ।

প্রাইমটিভি/এনজি