পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর কাজল ও চর বিশ্বাস ইউনিয়নে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও কম ভোল্টেজের কারণে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। এতে স্বাভাবিক জীবনযাপন, ব্যবসা এবং ঘরের কাজগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, আগে তারা সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করতেন, কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার পর এখন পুরোপুরি পল্লী বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। তবে বিদ্যুতের অবস্থা এতটাই খারাপ যে দিনে গড়ে ২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। লোডশেডিং এত বেশি যে ২৪ ঘণ্টায় ২৬ বার বিদ্যুৎ আসে-যায়। এতে টিভি, ফ্রিজ, ব্লেন্ডারসহ মূল্যবান ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংক ও এনজিওসহ বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানে গ্রাহক সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

ব্যবসায়ী রায়হান হাওলাদার বলেন, ‘ ২৪ ঘন্টায় গড়ে ৩ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাই না।এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম।লোডশেডিং এমন তিব্র অবস্থা ধারণ করেছে যে ২৪ ঘন্টায় ২৬ বার বিদ্যুৎ আসে এবং যায়।আবার যখন বিদ্যুৎ থাকে, তখনো ভোল্টেজ এতই কম থাকে যে, ফ্রিজ বা ফ্যান কিছুই ঠিকমতো চলে না। বারবার ভোল্টেজের তারতম্যে আমাদের ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে। অথচ মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল আসছে দ্বিগুণ।'

বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। অভিভাবকরা জানান, দিনে-রাতে মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় বড় বাধা তৈরি হচ্ছে। তারা চার্জার লাইট বা মোমবাতির আলোয় পড়তে বাধ্য হচ্ছে, যা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে খারাপ প্রভাব ফেলছে। অতিরিক্ত গরম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে, তাই নিয়মিত স্কুলে পাঠানোও কঠিন হয়ে গেছে।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বয়স্করাও সমস্যায় পড়েছেন। তীব্র গরমে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং হিটস্ট্রোকের মতো ঘটনাও ঘটছে।

চর কাজল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেন বলেন, 'বিদ্যুতের অভাবে স্কুল ও বাসা কোথাও শিক্ষার্থীরা স্বস্তি পাচ্ছে না। তীব্র গরমে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে না পারায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগ কমে গেছে।'

এ বিষয়ে গলাচিপা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জয় প্রকাশ নন্দী অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, 'চর বিশ্বাস ও চর কাজল এলাকায় ভোলা সদর গ্রিড থেকে নদী পার হয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়। দূরত্ব বেশি হওয়ায় ভোল্টেজের সমস্যা হচ্ছে।'

তিনি আরও বলেন, 'এখন চরফ্যাশনে একটি নতুন গ্রিড নির্মাণ হচ্ছে। কাজ শেষ হলে এই অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের অবস্থা অনেক ভালো হবে।'

প্রাইমটিভি/এমএইচ