কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের আরএমবি ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আমিনুল হক রাব্বানীর বিরুদ্ধে রেলওয়ের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্টেশনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে টিকিট কাউন্টারে প্রবেশ এবং টিকিট বিক্রির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রেলওয়ের বিধি অনুযায়ী বুকিং সহকারী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কারও টিকিট কাউন্টারের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি নেই। তবে ইন্সপেক্টর আমিনুল হক রাব্বানী নিয়মিত কাউন্টারে প্রবেশ করে সরাসরি টিকিট বিক্রি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় সাধারণ যাত্রী ও রেলসংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এটি শুধু নিয়ম লঙ্ঘন নয়, বরং টিকিট কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণের একটি সুসংগঠিত চক্রের অংশ।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সাধারণ যাত্রীরা কাউন্টারে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পেলেও একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত মূল্যে টিকিট বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এই সিন্ডিকেট পরিচালনায় আমিনুল হক রাব্বানীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী।

দেশের অন্যতম পর্যটননির্ভর এই রেলস্টেশনে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ও যাত্রী যাতায়াত করেন। ফলে টিকিট সংকট ও কালোবাজারির অভিযোগে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে বলে দাবি সচেতন মহলের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইন্সপেক্টর আমিনুল হক রাব্বানী বলেন, “কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী সাংবাদিকদের সঙ্গে আমাদের কথা বলা নিষেধ।” কাউন্টারে টিকিট বিক্রির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “যে ছবি দেখানো হচ্ছে, সেটা এআই দিয়ে তৈরি করা হতে পারে।” টিকিট কালোবাজারির অভিযোগও তিনি নাকচ করেন।

অন্যদিকে কক্সবাজার রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার জয়নাল উদ্দিন বলেন, “নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া কাউন্টারে প্রবেশের সুযোগ নেই। যদি কোনো নিরাপত্তা কর্মকর্তা অনুমোদন ছাড়া কাউন্টারে প্রবেশ করে টিকিট বিক্রি করে থাকেন, তাহলে তা নিয়মবহির্ভূত এবং গুরুতর অপরাধ।”

টিকিট কালোবাজারির বিষয়ে তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পাইনি। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হবে।”

এদিকে রেলওয়ের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং যাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষায় অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রী, পর্যটক ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

প্রাইমটিভি/কেআর