মে মাসে মব-গণপিটুনি নিহত ৩১, রাজনৈতিক সহিংসতায় ৫

ছবি- সংগৃহীত
দেশে গত মে মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ৫ জন নিহত এবং ২৮৯ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। একই সময়ে গণপিটুনি ও মব সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৩১ জন।
শুক্রবার (৫ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মে মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরে সংগঠনটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে বিএনপির একজন, জামায়াতের একজন, পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউপিডিএফের দুজন এবং একজন সাধারণ নারী রয়েছেন। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, দলীয় কোন্দল, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক বিরোধকে অধিকাংশ সহিংসতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
এইচআরএসএস জানায়, মে মাসে সারা দেশে ৬৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫ জন এবং আহত হয়েছেন ২৮৯ জন। এপ্রিল মাসের তুলনায় রাজনৈতিক সহিংসতা ও হতাহতের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। এপ্রিল মাসে ৯৮টি ঘটনায় ৬ জন নিহত এবং ৫৩৩ জন আহত হয়েছিলেন।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এক ঘটনায় আহত হয়েছেন ১১৪ জন। বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ১০টি ঘটনায় একজন নিহত ও ৪৯ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ১৪টি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন দুজন এবং আহত হয়েছেন ৭২ জন।
প্রতিবেদনে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মে মাসে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্মীয় অবমাননা, আধিপত্য বিস্তার ও ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে ৬৬টি ঘটনায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন।
এইচআরএসএস জানিয়েছে, মে মাসে ৩৯টি ঘটনায় ৭৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪২ জন আহত, ১৮ জন লাঞ্ছিত এবং ৯ জন হুমকির মুখে পড়েছেন। একজন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে এবং দুটি মামলায় ৮ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসে সুন্দরবনের শতমুখী খাল এলাকায় বন বিভাগের গুলিতে একজন এবং মাদকবিরোধী অভিযানে পালানোর সময় একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন কারাগারে অন্তত ৭ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন আওয়ামী লীগ নেতা এবং ছয়জন সাধারণ বন্দি।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর মে মাসে তিনটি হামলার ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। এছাড়া ছয়টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর এবং একটি ভূমি দখলের ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়া ও ঢাকায় পৃথক দুটি মাজারে হামলার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ছয়টি ঘটনায় ছয়জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বিএসএফ ১৪ জনকে আটক করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। এছাড়া চারটি ঘটনায় ১৮ জনকে আটক করেছে আরাকান আর্মি।
মে মাসে ৩০৫ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে এইচআরএসএস। এর মধ্যে ৮৩ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যাদের ৫৭ জনই শিশু ও কিশোরী। গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৭ জন।
একই সময়ে ৭৬ জন নারী ও কন্যাশিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। পারিবারিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৬৩ জন নারী, আহত হয়েছেন ৩১ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ৪৫ জন।
শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অন্তত ২১৫ জন শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ২১১ জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন, সীমান্তে সহিংসতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার, হয়রানি ও আইনি পদক্ষেপের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এসব সমস্যার সমাধান না হলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।
মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারকে আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
প্রাইমটিভি/কেআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








