শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রহস্যজনকভাবে গরম হয়ে উঠেছে মাটি। হাসপাতালের প্রধান প্রবেশপথ সংলগ্ন প্রায় ৫০ ফুট এলাকাজুড়ে গত দুই দিনের বেশি সময় ধরে মাটির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকায় সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ ও কৌতূহল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস।

মাটিতে গর্ত করে পানি ঢেলে তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করা হলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাটির গভীর অংশ থেকেও তাপ অনুভূত হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, কয়েকদিন আগে প্রথমবারের মতো ওই স্থানে মাটি গরম থাকার বিষয়টি নজরে আসে। পরে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে ভিড় করতে শুরু করেন উৎসুক মানুষ। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয় স্থানীয়দের মধ্যে।

গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুল রহমান মিয়া বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। রোগী, স্বজন ও হাসপাতাল কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এদিকে প্রাথমিক তদন্তে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কোনো ত্রুটির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। গোসাইরহাট পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. আব্দুল মতিন বলেন, প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ লিকেজ বা লাইনের কোনো সমস্যার আলামত পাওয়া যায়নি। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।

গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা এবিএম বাসার জানান, পানি প্রয়োগের পরও তাপমাত্রা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিষয়টির প্রকৃত কারণ জানতে বিশেষজ্ঞদের মতামত প্রয়োজন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওসাদ হাসান জানিয়েছেন, ঘটনার উৎস শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় রহস্যজনক এই তাপের উৎস অনুসন্ধান করা হবে।

অস্বাভাবিক এ ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া না গেলেও প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে কৌতূহলের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ।

প্রাইমটিভি/এনজি