কুমিল্লায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে এইডসজনিত জটিলতায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৩৭ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে অধিকাংশ নতুন সংক্রমণ ঘটছে অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এইচআইভি এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কুমিল্লা জেলার ৩৮৫ জনসহ ১৫ জেলার মোট ৬১৫ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৬৭২টি নমুনা পরীক্ষায় ৩৭ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন পুরুষ যৌনকর্মী, পুরুষে-পুরুষে যৌন সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, বিবাহিত সম্পর্কের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তি, বিদেশফেরত নাগরিক এবং সাধারণ মানুষ।

এদিকে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে এইচআইভি ও এইডসজনিত কারণে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে দুইজন, মার্চে একজন, এপ্রিলে একজন এবং মে মাসে তিনজন মারা যান।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মোট ৬ হাজার ৬৪৬টি এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৮ জনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে ৪০ জন একই সঙ্গে যক্ষ্মা রোগেও আক্রান্ত।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত শনাক্ত রোগীদের মধ্যে পুরুষে-পুরুষে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছেন ৯১ জন, পুরুষ যৌনকর্মী ৪০ জন, বিদেশফেরত ৪৯ জন এবং এইচআইভি আক্রান্ত জীবনসঙ্গীর মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন ৪১ জন। এছাড়া নারী যৌনকর্মীর মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছেন ২১ জন এবং সাধারণ মানুষের সংখ্যা ৩২ জন।

এইচআইভি এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলর আরিফ হাসান বলেন, সচেতনতার অভাব এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের কারণে সংক্রমণের হার বাড়ছে। একই সঙ্গে সামাজিক কুসংস্কার ও গোপনীয়তার কারণে অনেকেই সময়মতো পরীক্ষা করাতে আগ্রহী হন না।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহাজাহান বলেন, এইচআইভি প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ আচরণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। দ্রুত শনাক্তকরণ ও নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি আক্রান্তদের প্রতি বৈষম্যহীন ও সহমর্মী আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা ও নিয়মিত চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

প্রাইমটিভি/এনজি