জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বৈশ্বিক জলবায়ু নীতিনির্ধারণে যুবসমাজকে আলোচনার মূল টেবিলে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের তরুণ প্রতিনিধি ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে তারা কপ৩১ (COP31) সামনে রেখে জলবায়ু অর্থায়নে ঋণনির্ভরতা বন্ধ করে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সরাসরি অনুদানভিত্তিক তহবিল নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বুধবার রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টার অডিটরিয়ামে অক্সফাম ইন বাংলাদেশ ও মিশন গ্রিন বাংলাদেশ (এমজিবি)-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত “The Road to COP31: Bridging Asian Youth Demands from Grassroot to Global Level” শীর্ষক নীতি-নির্ধারণী সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে যুব ফেলো নুহাইল কবির ও এ. জে. সাগর মাঠপর্যায়ের গবেষণা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তারা রাজশাহীর মুন্ডা আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও নদীভাঙন কবলিত মানুষের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে জলবায়ু অর্থায়নে “সরাসরি অনুদান, কোনো ঋণ নয়” নীতির বাস্তবায়নের দাবি জানান।

প্রধান বক্তা হিসেবে দেশের বিশিষ্ট জলবায়ু বিজ্ঞানী ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল ব্যবস্থায় নানা কাঠামোগত জটিলতা রয়েছে। বাংলাদেশকে সরাসরি তহবিল পাওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে আরও কার্যকরভাবে নিজেদের দাবি উপস্থাপন করতে হবে। তিনি বলেন, জলবায়ু অর্থায়ন হতে হবে ন্যায়সঙ্গত, সহজলভ্য, জবাবদিহিমূলক ও অনুদানভিত্তিক।

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর শরীফ জামিল বলেন, কপ কেবল অংশগ্রহণের মঞ্চ নয়, বরং প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র। এজন্য তরুণদের তথ্য-প্রমাণ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং বাস্তবভিত্তিক গবেষণা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

বিশেষ যুব প্যানেলে ইয়ুথনেট গ্লোবালের এক্সিকিউটিভ কোঅর্ডিনেটর সোহানুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে যাওয়ার আগে দেশের নীতিনির্ধারণী কাঠামোতে যুবসমাজের দাবি অন্তর্ভুক্ত করাই এখন বেশি জরুরি। প্যানেলের অন্যান্য বক্তারাও তৃণমূলভিত্তিক জলবায়ু আন্দোলনকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষজ্ঞ প্যানেলে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর জলবায়ু কূটনীতির জন্য যুবসমাজকে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও ডেটা-নির্ভর উপস্থাপনার দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

সিরাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দ্রুত বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যদিকে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে এখন টিভির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহমুদ রাকিব বলেন, জলবায়ু সংকটকে শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে নয়, এর পেছনের কাঠামোগত কারণ ও বৈশ্বিক বৈষম্যও গণমাধ্যমে তুলে ধরা জরুরি।

সেমিনারের মডারেটর এবং অক্সফাম ইন বাংলাদেশের ইনফ্লুয়েন্সিং, কমিউনিকেশনস, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড মিডিয়া (ICAM) প্রধান মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় কেবল সচেতনতা বৃদ্ধি নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন যুব সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে সমাপনী পর্বে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের মাঝে স্মারক হিসেবে টবসহ জীবন্ত গাছ বিতরণ করা হয়।

প্রাইমটিভি/কেআর