বাবা: বলা না হওয়া ভালোবাসার অন্য নাম

বাবার ভালোবাসা
আজ বাবা দিবস। প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হয়।
অনেক সম্পর্কের গল্প উচ্চস্বরে বলা যায়। কিন্তু বাবাদের গল্পটা যেন অন্যরকম। সেখানে ভালোবাসা থাকে, থাকে ত্যাগ, দায়িত্ব আর নীরবতা। ছোটবেলায় যাকে মনে হতো সবচেয়ে কঠোর মানুষ, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকেই সবচেয়ে বেশি বুঝতে শেখে সন্তানরা।
জীবনের প্রতিটি বাঁকে, বলা কিংবা না বলা অসংখ্য মুহূর্তে জড়িয়ে থাকে বাবার উপস্থিতি। সংসার নামের যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি যেন এক নিরলস যোদ্ধা। নিজের স্বপ্ন, চাওয়া আর ক্লান্তিকে আড়াল করে পরিবারের জন্য গড়ে তোলেন নিরাপদ আশ্রয়।
অনেকের কাছেই বাবার সঙ্গে সম্পর্কটা কিছুটা দূরত্বের। কথাবার্তা কম হয়, আবেগ প্রকাশও হয় না সহজে। কিন্তু বাড়ি ছেড়ে দূরে যাওয়ার পর, কিংবা জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখার পর সেই নীরব সম্পর্কের গভীরতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
উচ্চশিক্ষা বা কর্মজীবনের জন্য প্রতিবছর হাজারো তরুণ-তরুণী শহরে আসে। নতুন পরিবেশ, নতুন স্বাধীনতার ভিড়ে বাবার সঙ্গে দূরত্ব যেন আরও বেড়ে যায়। কিন্তু মাসের শুরুতে পাঠানো টাকায়, কিংবা হঠাৎ ফোন করে খোঁজ নেওয়ার মধ্যেই টের পাওয়া যায় তাঁর অদৃশ্য উপস্থিতি।
যাদের বাবা আর বেঁচে নেই, তাদের কাছে বাবার স্মৃতি আরও গভীর, আরও আবেগময়। ফোনের ওপাশে আর কোনো কণ্ঠস্বর শোনা যায় না, তবু প্রতিদিন মনে পড়ে সেই মানুষটিকে, যিনি ছিলেন জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা।
কেউ কেউ আজও কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দুই ফোঁটা চোখের পানি ফেলে প্রার্থনা করেন। কেউ আবার মন খারাপের মুহূর্তে বাবার হাতটা ধরার আকাঙ্ক্ষা অনুভব করেন। কারণ বাবা শুধু একজন অভিভাবক নন, তিনি একজন নির্ভরতার জায়গা, একজন পরামর্শদাতা, একজন আজীবনের আশ্রয়।
বিশ্বে প্রতিদিন জন্ম নেয় প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিশু। আর তাদের সঙ্গে জন্ম নেয় একই সংখ্যক বাবা। সময়ের সঙ্গে রাগ, অভিমান, শাসন আর ভালোবাসার অদৃশ্য বন্ধনে জড়িয়ে যায় সেই সম্পর্ক।
কাছে থাকুক কিংবা স্মৃতিতে, সন্তানের জীবনে বাবা নামের সূর্য কোনো দিন অস্ত যায় না। তাঁর ভালোবাসা প্রকাশিত হোক বা না হোক, জীবনের প্রতিটি আলোয়, প্রতিটি ছায়ায় তিনি থেকে যান অবিচ্ছেদ্য হয়ে। তাইতো বাবা দিবসের প্রত্যাশা ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল বাবা।
প্রাইমটিভি/এনজি

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।





