মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সরকারি বিদেশ সফরকে ঘিরে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

আগামী ২১ ও ২২ জুন অনুষ্ঠিতব্য দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। অনেকেই অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বৈধতা দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসবে বলে আশা করছেন। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা “গ্র্যাজুয়েট পাস” সুবিধা চালুর দাবি জানিয়েছেন।

বর্তমানে মালয়েশিয়া ৩২টি দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতক বা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর ১২ মাসের গ্র্যাজুয়েট পাস সুবিধা প্রদান করলেও বাংলাদেশ এ তালিকায় নেই। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা স্পন্সর ছাড়া এক বছর অবস্থান ও চাকরি অনুসন্ধানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের। এ কারণে বাংলাদেশকে ৩৩তম দেশ হিসেবে এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের আরেকটি অংশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচনায় আনার জন্য।

সূত্র অনুযায়ী, আগামী ২১ জুন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সফরসূচির অংশ হিসেবে ওই রাতেই প্রবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার।

দ্বিতীয় দিনে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। সফরকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং প্রবাসী কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান আসতে পারে।

এদিকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো সফরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। দলীয় নেতাকর্মী ও প্রবাসীরা বিভিন্ন শহরে স্বাগত কর্মসূচির আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের মতে, এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে পারে।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুন থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ থাকায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), রপ্তানি, হালাল খাদ্য সার্টিফিকেশন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে শত শত শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য যাচ্ছেন। তারা শুধু ডিগ্রি অর্জনই নয়, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বৈশ্বিক কর্মবাজারে নিজেদের প্রস্তুত করছেন। তবে গ্র্যাজুয়েট পাস সুবিধা না থাকায় অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী বিভিন্ন খাতে কর্মরত রয়েছেন। প্রবাসীরা আশা করছেন, এই সফরের মাধ্যমে শ্রমবাজার, শিক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন অগ্রগতি আসবে।

প্রাইমটিভি/এমএইচ