ইলিশ ধরার ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে গভীর সাগরে যাত্রা করেছিলেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার হাজার হাজার জেলে। কিন্তু এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তাদের জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মেলেনি। এর মধ্যে বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল হয়ে ওঠায় অনেকেই মাছ ধরা বন্ধ করে হতাশ হয়ে ট্রলার নিয়ে ঘাটে ফিরছেন। তীরে ফেরা অধিকাংশ ট্রলারের জেলেরা তেমন ইলিশ পাননি। ফলে লোকসানে পড়েছেন তারা।

জেলে ও মৎস্য সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি ট্রলারে সাধারণত ১২-১৮ জন জেলে থাকেন। মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে ১০ থেকে ১২ দিনের জন্য বাজার-সদাই করে তারা সাগরে যান। এতে প্রতিটি ট্রলারে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া কিংবা কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় প্রায়ই ক্ষতির মুখে পড়তে হয় জেলেদের।

মহিপুর-আলিপুর মৎস্যবন্দর ঘুরে দেখা গেছে, সাগর উত্তাল থাকায় অনেক ট্রলার মাছ ধরতে না পেরে ফিরে এসেছে। যে কয়েকটি ট্রলার সাগরে গিয়েছিল, সেগুলোও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে অন্যান্য প্রজাতির মাছ নিয়ে ফিরেছে। নিষেধাজ্ঞা শেষে এক সপ্তাহে বাজারে অনেক আশা নিয়ে সাগরে যাওয়া জেলেরা এখন হতাশায় দিন পার করছেন।

মহিপুরের এক জেলে বলেন, বর্তমানে সাগর খুবই উত্তাল। বড় বড় ঢেউয়ের কারণে ট্রলার নিয়ে সমুদ্রে থাকা যাচ্ছে না। তাই তীরে ফিরে এসেছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের নিয়ন্ত্রণে নয়। প্রকৃতি অনুকূলে না থাকলে জেলেদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েন।

মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) রাজা মিয়া বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ ট্রলার ঘাটেই ছিল। কিছু ট্রলার সাগরে গেলেও উত্তাল আবহাওয়ার কারণে দ্রুত ফিরে এসেছে। এ ছাড়া সাগরে তেমন ইলিশও মিলছে না।

ফলে নিষেধাজ্ঞা শেষে ভালো মৌসুমের আশায় থাকা উপকূলের জেলেদের স্বপ্নে ভাটা পড়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও ইলিশের অপ্রতুলতায় উদ্বেগ বাড়ছে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

প্রাইমটিভি/এমএইচ