চোখ মানুষের হৃদয়ের দরজা। আর সেই দরজার সুরক্ষা নিয়েই এসেছে মহান আল্লাহর নির্দেশ। মুমিন নর-নারীর জন্য দৃষ্টি অবনত রাখা শুধু নৈতিকতার বিষয় নয়, বরং এর ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর আধ্যাত্মিক ও মানবিক কল্যাণ। দৃষ্টি সংযত রাখলে মানুষের অন্তর অযথা আক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকে। পৃথিবীর চাকচিক্য দেখে না পাওয়ার কষ্টে দগ্ধ হতে হয় না। বরং সে খুঁজে পায় তৃপ্তি আর শান্তি।

ইসলাম বলে, যে ব্যক্তি নিজের চোখকে সংযত রাখে, আল্লাহ তার অন্তরে নূর দান করেন। এই নূর মানুষকে সঠিক পথ দেখায়, ভুল থেকে ফিরিয়ে আনে। কারণ চোখই অন্তরের জানালা। এই জানালা রক্ষা পেলে অন্তরও পবিত্র থাকে। দৃষ্টি হেফাজত মানুষের দূরদর্শিতা বাড়ায়। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার শক্তি তৈরি হয়। আল্লাহভীতি ও আত্মসংযম একজন মানুষকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যায়, যেখানে তার প্রতিটি পদক্ষেপ হয়ে ওঠে পরিমিত ও চিন্তাশীল।

শুধু তাই নয়, হারাম দৃষ্টি থেকে বেঁচে থাকলে আল্লাহ জ্ঞানের দরজা খুলে দেন। অন্তরে সৃষ্টি হয় এমন এক আলো, যা সত্যকে স্পষ্ট করে দেয়। আর এই আলোই মানুষকে এগিয়ে নেয় হেদায়েতের পথে। দৃষ্টি সংযম আত্মাকে শক্তিশালী করে। মানুষের ভেতরে জন্ম নেয় দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস এবং এক ধরনের প্রশান্তি। তখন ইবাদতে আসে স্বাদ, আল্লাহর ভালোবাসায় আসে গভীরতা।

অন্যদিকে, অবাধ দৃষ্টি মানুষকে টেনে নেয় অশ্লীলতা ও পাপের দিকে। ধীরে ধীরে সে হারিয়ে ফেলে তার আত্মিক শক্তি, নৈতিকতা এবং জীবনের লক্ষ্য। আজকের যুগে এই হারাম দৃষ্টি যেন এক মহামারিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ এই সংকটে বেশি আক্রান্ত। অথচ এই দৃষ্টি সংযমই পারে তাদের জীবনকে আলোকিত করতে, ভবিষ্যৎকে গড়তে।

তাই উচিৎ সবসময় নিজেকে সংযত করা এবং নিজের দৃষ্টিকে হেফাজত করা। কারণ একটি সংযত দৃষ্টি শুধু পাপ থেকে বাঁচায় না, বরং তা মানুষকে পৌঁছে দেয় আল্লাহর নৈকট্যে।