নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেই কুরবানি ওয়াজিব

কুরবানি ওয়াজিব । ছবিঃ সংগৃহীত
নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ জ্ঞানসম্পন্ন মুসলিমের ওপর কুরবানি করা আবশ্যক বলে ধর্মীয় বিধানে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপা কিংবা এর সমমূল্যের নগদ অর্থ বা সম্পদের মালিক হলে তার ওপর কুরবানি আদায় করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক জাতির জন্য কুরবানির বিধান নির্ধারণ করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে, যাতে মানুষ আল্লাহর নাম স্মরণ করে পশু জবাইয়ের মাধ্যমে তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। এতে আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি বিশ্বাস দৃঢ় করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় কুরবানির গুরুত্ব ও তা পালনের নির্দেশনা পাওয়া যায়। ঈদের দিন ঈদের নামাজ আদায়ের পর কুরবানি করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত ও ইবাদত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিস অনুযায়ী, প্রথমে নামাজ আদায় এবং এরপর কুরবানি সম্পন্ন করাই ইসলামী রীতি।

কুরবানির পশু নির্বাচনেও কিছু শর্ত রয়েছে। পশু অবশ্যই সুস্থ ও ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। স্পষ্টভাবে খোঁড়া, অন্ধ, গুরুতর অসুস্থ কিংবা অতি দুর্বল পশু দিয়ে কুরবানি করা বৈধ নয় বলে ধর্মীয় নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে মৃত ব্যক্তির নামে কুরবানি দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। ইসলামী বর্ণনায় দেখা যায়, মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে কুরবানি করা বৈধ বলে অনেক আলেম মত প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে জীবিত ও মৃত ব্যক্তির নাম একসঙ্গে উল্লেখ করে কুরবানি দেওয়ার প্রচলনও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কিছু ভিন্ন মতও বিদ্যমান।
অন্যদিকে কোনো ব্যক্তি যদি মৃত্যুর আগে কুরবানির অসিয়ত করে যান, তাহলে সেই কুরবানির গোশত নিজেরা ভোগ না করে গরিব ও অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করার নির্দেশনা রয়েছে বলে ধর্মীয় ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়।
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কুরবানি শুধুমাত্র একটি আচার নয়, বরং এটি আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ, ত্যাগ এবং মানবিক সহমর্মিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
প্রাইমটিভি/এনজি

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









