চট্টগ্রামে বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে ডিবি পরিচয়ে আটকের চেষ্টা; গলা চেপে ধরা, মোবাইল কেড়ে নেওয়া লাঠিপেটার অভিযোগ জাতীয় দলের স্পিনার নাঈম হাসানের

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসান চট্টগ্রামে পুলিশি হয়রানি নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) শেষ রাউন্ড খেলে ঢাকা থেকে খেলে চট্টগ্রামে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে বাসায় যাওয়ার পথে ডিবি পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেছেন তিনি। সময় তাকে গলা চেপে ধরা, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগও করেন এই ক্রিকেটার।

ঘটনাটি গণমাধ্যমের সামনে বর্ণনা করতে গিয়ে একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নাঈম।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাঈম বলেন, “ডিপিএলের ম্যাচ খেলে ফিরছিলাম। ১০টা ২০ মিনিটে আমাদের ফ্লাইট পৌঁছায়। তখন কোনো গাড়ি পাচ্ছিলাম না। তারপর সিএনজিতে করে যাচ্ছিলাম আমি। টোলের ওখানে একজন ট্রাফিক পুলিশ আমাদের থামায়। তারপর একজন বলে আমাদের গাড়ি চেক করো। আমি ভেবেছিলাম ব্যাগট্যাগ চেক করবে।

এরপরই পরিস্থিতি ভয়াবহ মোড় নেয় বলে দাবি করেন তিনি, “কিন্তু উনি (এসআই শফিক) আমাকে ধাক্কা মেরে সিএনজির ভেতর ঢুকিয়ে লক করে দেয়। আমি জিজ্ঞেস করছিলাম যে কী হয়েছে। আমি তখন ভয় পেয়ে যাই। তখন উনি (শফিক) আমাকে বলেন যে, ‘তুই আসামি। তুই চুপ থাক, একটাও কথা বলবি না।’”

নাঈমের অভিযোগ, শুধু আটক করাই নয়, শারীরিকভাবেও তাকে নির্যাতন করা হয়েছে।

তিনি জানান, “তারপরে আমার গলা চেপে ধরেছে। তখন আমি চিল্লাচিল্লি করেছি আব্বুকে কল দিয়েছি। আমার মোবাইলও নিয়ে নেয় তখন। ওখানে থাকা ভাইয়ারা সবাই আমার পরিচয় নিশ্চিত করেছে, তবুও উনি আমার গলা চিপে ধরে রাখে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন তাকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে শনাক্ত করলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি বলে দাবি করেন নাঈম।

নাইম বলেন, “ওদের একজন পুলিশের ড্রেসে ছিল, আরেকজন পাঞ্জাবি পরা ছিল। ওরা আমাকে থানায় নিয়ে আসে। আমি তখন ওসিকে আমার পরিচয় দিই। ওসি আমাকে বলে যে, ‘চোখ নিয়ে নামিয়ে কথা বলো।তারপর যখন উনার ফোনে আমাকে নিয়ে কল আসা শুরু করেছে, তখন উনি খুব ভালো হাবভাব দেখিয়েছেন।

জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও কেন তাকে আটক রাখা হলো, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

প্রাইমটিভি/এমএইচ