নিজের জামাতাকে কেনো ভিলেন বললেন আবুল হায়াত ?

সংগৃহীত ছবি
আবুল হায়াত বলেন, আমার বাসায় যখন তৌকীর আসে বা তৌকীরের সাথে যখন আমার দেখা হয়, আমাদের যে কথাবার্তাগুলো হয়, আমি মনে করি যে আমার একটা ক্লাস হলো, আমি অনেক কিছু শিখলাম। আমরা যারা পুরনো আছি; কিছু কিছু আমাদের ছোটবেলা থেকে একটা পড়ার অভ্যাস ছিল, ক্লাসে বই ছিল, বই জোর করে দিত স্কুল থেকে, পড়তে হবে, গল্প পরের দিন এসে সেই গল্প বলতে হবে— সেগুলো তো হারিয়ে গেছে। কিন্তু তৌকীর যেখানেই যাবে, যখন কোনো মার্কেটে গেলে আমি তাকে খালি হাতে ফিরতে দেখিনি। বই একটা কিনবেই সে।
নিজের মেয়ে বিপাশা হায়াতেরও বই পড়ার প্রবল নেশা রয়েছে উল্লেখ করে এই প্রবীণ অভিনেতা বলেন, বিপাশার এই একেই অভ্যাস আছে। বিপাশা ক্লাস টেনে যখন পড়ে, তখন বিপাশার কোরআন, বেদ, বাইবেল এগুলো তার পড়া শেষ। চিন্তা করা যায় না! কী পড়ে এত! ও কি রাত জেগে থেকে এতো বই পড়ে? এটা তার নেশা। এবং এখনো সে বই পড়ে। এবং আমাকে সে গল্প বলে। তো এই দুটো মানুষ একত্রিত হলো যেদিন, আমি বলি এখনো যে তৌকীর আমাকে সবচেয়ে বেশি কাঁদিয়েছে। বক্তব্যে আবুল হায়াত খানিক রসিকতা ও আবেগের সঙ্গে তৌকীর আহমেদকে ‘ভিলেন’ বলেও অভিহিত করেন! কারণ জামাতা হিসেবে মেয়েকে নিয়ে আবুল হায়াতকে কাঁদিয়েছেন তৌকির আহমেদ! আবুল হায়াত সে কথাই তুললেন। বলেন, যেদিন সে বিপাশাকে নিয়ে গেল, এতো কান্না আমার জীবনে আমি কাঁদিনি। আমার দুটো কন্যা, দুটো কন্যা যেদিন বিয়ে হলো, এই দুই কন্যার বিয়েতে আমি কেঁদেছি। তার মধ্যে তৌকীর হলো প্রথম ভিলেন।
জামাতাকে নিয়ে আরও খানিকটা রসিকতা করে বর্ষীয়ান অভিনেতা বললেন, জামাই হিসেবে কি রকম? আমি বলবো যে তার শাশুড়ির কাছে সে হলো শ্রেষ্ঠ জামাই। কারণ তাকে যা খেতে বলে সে তাই খায়। টেবিলে খাবার দেওয়া হয় এবং আমার ওয়াইফের একটা সমস্যা আছে, সে সবসময় খালি তৌকিরের পাতে ঢালতে থাকে। ‘একটাই মাছ, ইলিশ মাছ, আরেক টুকরো নাও।’ ‘আচ্ছা ওটা তো খুব মজা লেগেছে না?’ ‘আরেক টুকরো নাও।’ আর সে ভালো মানুষের মতো, ‘নিচ্ছি মা, নিচ্ছি, আমি বড়টাই নিচ্ছি। আমি বড়টাই নিচ্ছি।’ তো এই যে মাকে খুশি করার জন্য, আমি জানি না হয়তো তার হয়তো খাওয়ার আর উপায় নাই, তারপরও সে তার শাশুড়ি মাকে খুশি করার জন্য সে খায়।

Desk Report
© 2026 Prime Tv. All rights reserved.









