তেল শোধনাগারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা

ক্রুড বা অপরিশোধিত তেল সংকটের কারণে তেল পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির।
অপরিশোধিত তেলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায়, রোববার (১২ এপ্রিল) বিকালে শেষ পরিশোধন কার্যক্রমের পর আপাতত পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
তবে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছে জ্বালানি বিভাগ। নাম প্রকাশ না করে ইআরের একজন কর্মকর্তা স্টার নিউজকে জানান, পাঁচটি ট্যাংকের তলানিতে প্রায় ৩৩ হাজার টন ক্রুড তেল ডেস্ক ছিল। আর এসপিএম থেকে ৫ হাজার টন আনা হয়েছিল রিফাইনারিতে। এগুলো দিয়ে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। কিন্তু এটি অনিরাপদ অপারেশন। কারণ ডেস্কে ময়লা-বর্জ্য জমে থাকে। এগুলো যে-কোনো সময় পাম্পে আটকে যেতে পারে। যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্তও হতে পারে। সাধারণত ট্যাংকের তলানির ১.৫ মিটারের মতো ডেস্ক ধরা হয়। রোববার বিকালে তা ১ মিটারের নিচে নেমে গেছে। ফলে আর তা ব্যবহার উপযোগী নয়। আর ডেস্কের তেলে থাকা বর্জ্য, স্লাগের কারণে প্ল্যান্টের ক্ষতি হতে পারে। এসব বিবেচনায় পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে গত প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি বন্ধ রয়েছে। এ মাসের তিন তারিখ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলেও রিজার্ভে থাকা ক্রুড দিয়ে দৈনিক এক হাজারের নিচে উৎপাদন করে চলছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে এই মাসের ১৮ তারিখ মালয়েশিয়া থেকে এক টনের একটি চালান দেশে আনার কথা জানিয়েছে বিপিসি। এছাড়াও আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে ক্রুডের আরও একটি চালান দেশে আসবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই জ্বালানি আসার আগে এই উৎপাদন কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ইআরএল কর্মকর্তারা।
বিপিসির তথ্যমতে, দেশে প্রতি বছর ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ বেশি। প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে, যা ইআরএলে পরিশোধন করা হয়। এলপিজি, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন, ডিজেল ও ফার্নেসসহ ১৩ রকমের তেল জাতীয় পণ্য উৎপাদন করে ইআরএল। অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ভারত ও চীন থেকে বছরে প্রায় ৪৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে বাংলাদেশ।

Bithi Rani Mondal
© 2026 Prime Tv. All rights reserved.









