• সংরক্ষিত আসনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন তাসনিম জারা: সংসদে গেলে জনগণের ভোটেই যাবেন তিনি
• ফতুল্লায় গুদারাঘাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষঃ আহত ৫
•অনলাইন প্রতারণার নতুন ফাঁদ: ‘বুলসুক’ কোম্পানির বিরুদ্ধে কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, নেপথ্যে তৌহিদ-ইমন গং!
•সিন্ডিকেটের হাতে জনগণকে জিম্মি হতে দেবে না সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
•গ্রাফিতিতে গুপ্ত লেখা’কে কেন্দ্র করে, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ
•স্থায়ীভাবে ইরান যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে এবার মার্কিন সেনাদের বিক্ষোভ
•বস্ত্র ও পাট খাতে নতুন প্রাণের সঞ্চার, সচল হতে যাচ্ছে বন্ধ মিলগুলোঃ বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী
• মনের মানুষ খুঁজতে কক্সবাজার গেলেন হিরো আলম
•পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি’র সাথে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎকার
•(ঢামেক) ছাত্রী কমন রুম থেকে এপ্রোন ও স্টেথোস্কোপসহ এক ভুয়া শিক্ষার্থীকে আটক
•এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলো প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী
•মুক্তি পাওয়ার আগেই ২৫০ কোটি টাকা আয় করেছে ‘কিং’ সিনেমা
•এই সপ্তাহেই তৈরি হবে এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন : শিক্ষামন্ত্রী
•বাংলাদেশের ‘আলী’ জার্মানিতে পুরস্কার জিতল
•ইতালির রাষ্ট্রদূতের সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক: দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহী ইতালি
• যৌন হয়রানি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে বিপাকে অভিনেত্রী হানসিকা মোতওয়ানি
•ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা
•মে দিবসে মঞ্চে আসছে আরণ্যকের ‘রাঢ়াঙ’
•অস্ত্র রপ্তানি উন্মুক্ত করল জাপান: যুদ্ধজাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্র যাচ্ছে ১৭ দেশে
•সবচেয়ে বেশি বয়সী মুরগির স্বীকৃতি পেলো ‘গার্টি’
• সংরক্ষিত আসনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন তাসনিম জারা: সংসদে গেলে জনগণের ভোটেই যাবেন তিনি
• ফতুল্লায় গুদারাঘাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষঃ আহত ৫
•অনলাইন প্রতারণার নতুন ফাঁদ: ‘বুলসুক’ কোম্পানির বিরুদ্ধে কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, নেপথ্যে তৌহিদ-ইমন গং!
•সিন্ডিকেটের হাতে জনগণকে জিম্মি হতে দেবে না সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
•গ্রাফিতিতে গুপ্ত লেখা’কে কেন্দ্র করে, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ
•স্থায়ীভাবে ইরান যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে এবার মার্কিন সেনাদের বিক্ষোভ
•বস্ত্র ও পাট খাতে নতুন প্রাণের সঞ্চার, সচল হতে যাচ্ছে বন্ধ মিলগুলোঃ বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী
• মনের মানুষ খুঁজতে কক্সবাজার গেলেন হিরো আলম
•পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি’র সাথে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎকার
•(ঢামেক) ছাত্রী কমন রুম থেকে এপ্রোন ও স্টেথোস্কোপসহ এক ভুয়া শিক্ষার্থীকে আটক
•এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলো প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী
•মুক্তি পাওয়ার আগেই ২৫০ কোটি টাকা আয় করেছে ‘কিং’ সিনেমা
•এই সপ্তাহেই তৈরি হবে এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন : শিক্ষামন্ত্রী
•বাংলাদেশের ‘আলী’ জার্মানিতে পুরস্কার জিতল
•ইতালির রাষ্ট্রদূতের সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক: দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহী ইতালি
• যৌন হয়রানি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে বিপাকে অভিনেত্রী হানসিকা মোতওয়ানি
•ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা
•মে দিবসে মঞ্চে আসছে আরণ্যকের ‘রাঢ়াঙ’
•অস্ত্র রপ্তানি উন্মুক্ত করল জাপান: যুদ্ধজাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্র যাচ্ছে ১৭ দেশে
•সবচেয়ে বেশি বয়সী মুরগির স্বীকৃতি পেলো ‘গার্টি’


বাজারে সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী কতিপয় অসাধু ব্যক্তিদের হাতে দেশের জনগণকে জিম্মি হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল, ২০২৬) বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটির সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানির সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে জনমনে থাকা শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লেও খাদ্যপণ্যের ওপর এর বড় কোনো প্রভাব পড়ার কথা নয়। বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির কারণে মূল্যস্ফীতি ঘটলেও সরকার সজাগ আছে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর যাতে এর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের হস্তক্ষেপের পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার।
বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে অধিকাংশ আমদানি পণ্যের মজুদ সন্তোষজনক ও স্থিতিশীল রয়েছে। এছাড়াও বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বোতলজাত তেলের ক্ষেত্রে কিছুটা ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকার দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে তিনি জানিয়েছেন।
ধারণার ওপর ভিত্তি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের গঠনমূলক সহযোগিতা কামনা করেন।
পরিশেষে মন্ত্রী জানান, টাস্কফোর্স নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ করবে এবং কোনো স্তরে অনিয়ম ধরা পড়লে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম।
গত শনিবার রাতে সরকার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যে তেল আমদানি এবং ভর্তুকির চাপ সামাল দিতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে প্রশ্ন উঠছে, দাম বাড়লেও কি কমবে জ্বালানি সংকট? দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে এখনো দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ সারি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ। সরকার বলছে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকটের শুরুতেই কার্যকর পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না। ফুয়েল পাস ব্যবস্থা, কিউআর কোড কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের পর দোকানপাট বন্ধের মতো সিদ্ধান্তগুলো এসেছে দেরিতে। এদিকে, ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বেড়ে ১১৫ টাকা হওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে পরিবহন ও কৃষি খাতে। কারণ দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেলনির্ভর। ফলে বাসভাড়া থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম সবকিছুতেই বাড়তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বমুখী বাজারে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। নতুন করে তেলের দাম বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু দাম বাড়ানোই সমাধান নয়। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করা, মজুতদারি নিয়ন্ত্রণ এবং ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা জরুরি। সঙ্গে প্রয়োজন কঠোর বাজার তদারকি, যাতে তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে না বাড়ে। এখন দেখার বিষয়, সরকার কত দ্রুত এই সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে, আর সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কতটা কমানো সম্ভব হয়।

বাংলাদেশের বর্তমান প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত এবং ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে জাতীয় সংসদে উদ্বেগের পাশাপাশি আশার কথা শুনিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশাররফ হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে বর্তমান সরবরাহ হার বজায় রেখে অবশিষ্ট গ্যাস দিয়ে মাত্র ১২ বছর দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
মন্ত্রী জানান, দেশে উত্তোলনযোগ্য প্রাকৃতিক গ্যাসের মোট মজুত ছিল আনুমানিক ২৯.৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। এর মধ্যে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ২২.১১ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের শুরু থেকে দেশে অবশিষ্ট মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭.৬৩ টিসিএফ।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পেট্রোবাংলার মাধ্যমে ধাপে ধাপে ১০০টি কূপ খননের বিশাল পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৬টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকিগুলোর কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান।
নতুন গ্যাস সম্পদ অনুসন্ধানে সিসমিক জরিপের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। মন্ত্রী জানান, বাপেক্স ইতোমধ্যে ৩ হাজার ৬০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক ডাটা সংগ্রহ করেছে। এছাড়া ভোলা, জামালপুর, হবিগঞ্জ ও বাখরাবাদসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ৩ডি সিসমিক জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিতাস, নরসিংদী ও কৈলাশটিলার মতো ক্ষেত্রগুলোতেও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে অনুসন্ধান জোরদার করা হচ্ছে। সরকারের এই বহুমুখী উদ্যোগ সফল হলে দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

রাজধানীতে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে সরকারকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
রোববার দুপুরে বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের দাম বাড়িয়েছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, শুরু থেকেই সরকার জানিয়েছে দেশে পর্যাপ্ত তেলের মজুত রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তেল পেতে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। এমনকি তেল সংকট দেখিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমও বন্ধ করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বেশি দাম হলেও মানুষ তেল কিনতে বাধ্য হয়। এর পেছনে সিন্ডিকেটের ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, সরকারের প্রশ্রয় বা অংশগ্রহণ ছাড়া এমন ঘটনা সম্ভব নয়। সংবাদ সম্মেলনে সরকারে স্বচ্ছতার অভাবের কথাও তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ করছে এবং জবাবদিহিমূলক শাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।বাক্স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। অভিযোগ করেন, সমালোচনামূলক মত প্রকাশের কারণে মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকি।
আন্তর্জাতিক কূটনীতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির আহ্বায়ক। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যথাযথ প্রতিক্রিয়া না থাকায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অবনতির দিকেও ইঙ্গিত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ৪৪ জন নেতা কর্মী এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো ইরান থেকে জ্বালানি তেলের দাম মেটাচ্ছে চীনা টাকায় ইউয়ানে।ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে এসব লেনদেন হচ্ছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে।সংকট বিবেচনায় এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে সমুদ্রে তেল বেচা-কেনার উপর ৩০ দিনের জন্য শিথিল করেছে আমেরিকা।সেই সুযোগে ইরান থেকে তেল কিনছে ইন্ডিয়া এবং তার মূল্য পরিশোধ করতেছে চীনা মুদ্রায়।
জানা যায় চলতি মাসে ইরান থেকে ২০ লাখ ব্যারেল তেল কিনেছে ভারতের বৃহত্তম তেল শোধনাগার কোম্পানি ‘ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন’যার বাজার মূল্য প্রায় ২০ কোটি ডলার।
এছাড়াও ইন্ডিয়ার আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইরান থেকে জ্বালানি তেল কিনেছে যার মধ্যে চারটি জাহাজ বন্দরে ভিড়তে দিয়েছে ভারত এবং কিছু জাহাজ থেকে তেল খালাসও হয়েছে।
এই কোম্পানি গুলো তেলের দাম ভারতের ICICI ব্যাংকের সাংহাই শাখার মাধ্যমে চীনা মুদ্রায় পরিশোধ করতেছে।আমেরিকার স্যাংসন থাকায় এবং মূল্য পরিশোধ জনিত ঝামেলা এরাতে ইরান থেকে কোন দেশ জ্বালানি তেল কেনার আগ্রহ দেখাতো না।
তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে এরপর আর সময় বৃদ্ধি করবে না।

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পারস্য সাগরের হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে বড় ধরনের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান কর্তৃক এই নৌপথে কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণের ঘোষণার পরপরই অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা ও রয়টার্স জানায়, কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (IRGC) গানবোট থেকে একটি বাণিজ্যিক ট্যাংকার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা ইউকেএমটিও নিশ্চিত করেছে যে, এ ঘটনায় বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আটটি ট্যাংকারের একটি বিশাল বহর একযোগে এই প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছিল, যা সাম্প্রতিক সময়ে এমন পরিস্থতি’তে বিরল। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই রুটে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘোষণা দেয়। এড় আগে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মুজতাবা খামেনি এক বার্তায় বলেছেন, পুরানো শত্রুকে নতুন করে তিক্ত পরাজয়ের স্বাদ দিতে আমাদের নৌবাহিনী প্রস্তুত।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য উত্তেজনাও বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধস নামাতে পারে।
অন্যদিকে, এই হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান নিয়ে ভালো খবর আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং নতুন চুক্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন। এমনকি ইরানের সাথে এখন সম্পর্ক ভালো বলেও দাবী করেন ট্রাম্প। কিন্তু খামেনির কঠোর বার্তার ও এই হামলার পর সেই সম্ভাবনা এখন ফিকে হয়ে গেসে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের চলমান বসন্তকালীন বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের এক সদস্য এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধিদল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে। প্রতিনিধিদলের ওই কর্মকর্তা জানান, আইএমএফ স্পষ্ট করেছে যে রাজস্ব খাত সংস্কার, ব্যাংক খাত সংস্কার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ভর্তুকি প্রত্যাহার এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নিশ্চিত করার শর্তগুলো বাংলাদেশ পূরণ করেনি। এ অবস্থায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় চলতি জুনের মধ্যে ১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড় করা হবে না। বর্তমান কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ এখনো মোট ১.৮৬ বিলিয়ন ডলার পাওনা থাকলেও তার ভাগ্য এখন অনিশ্চিত।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি আমদানির উচ্চ ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। আইএমএফের কঠোর অবস্থানের কারণে প্রতিনিধিদল এখন বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বিকল্প আলোচনার চেষ্টা করছে।
বৈঠকে আইএমএফ জানিয়েছে, বর্তমান ব্যবস্থা সংশোধন করে নতুন শর্তে ঋণ দিতে তারা বেশি আগ্রহী। এছাড়া সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া ব্যাংক রেজ্যুলেশন বিলে ১৮ক ধারা যুক্ত করে পুরনো মালিকদের ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া এবং সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাজেটের অর্থ ব্যবহারের সরকারি পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তাদের মতে, বাজেটের পরিবর্তে ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স স্কিমের মাধ্যমে এই পাওনা মেটানো উচিত।
আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় থাকায় এখনই উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংস্কারের উপযুক্ত সময়। তিনি জানান, গত তিন বছরে বাংলাদেশের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি আরও নিচে নেমেছে।
সিপিডিরনির্বাহীপরিচালকফাহমিদাখাতুনবলেন, অন্তর্বর্তীসরকারেরসময়সংস্কারউদ্যোগস্থবিরহয়েপড়েছিল।এখনসরকারকেহয়সবশর্তমানতেহবে, নতুবাচুক্তিথেকেসরেআসতেহবে।অর্থবিভাগেরসাবেকসিনিয়রসচিবমাহবুবআহমেদমনেকরেন, পুরোঅর্থতুলতেব্যর্থহলেবাংলাদেশেরবিশ্বাসযোগ্যতাক্ষতিগ্রস্তহবে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারনে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।যার প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়েছে বাংলাদেশে।চলমান সংকট মোকাবেলায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার।এরই প্রেক্ষিতে জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমাতে সরকারী বিভিন্ন কর্মশালা অনলাইন প্লাটফর্মে যুক্ত হওয়ার নিরদেশনা দেওয়া হয়েছে।জরুরী প্রয়োজন ছাড়া সশরীরে সভা-সমাবেশ আয়োজন পরিহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব সংশ্লিষ্ট দপ্তর নিকট চিঠি প্রেরণ করেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে ,সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে জ্বালানি তেলের সাশ্রয় করার পাশাপাশি সরকারি কার্যক্রম যাতে সাবলীল ভাবে পরিচালনা করা যায় সে বিষয়েও নিশ্চিত হতে হবে। এ অবস্থায় মন্ত্রণালয় থেকে আয়োজিত বিভিন্ন প্রোগ্রামে মাঠ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ করা নিশ্চিত করতে হবে।চিঠিতে আরও বলা হয়,বিভাগীয় পরযায়ের প্রোগ্রাম জেলা পর্যায় থেকে এবং জেলা পর্যায়ের প্রোগ্রাম উপজেলা পর্যায় থেকে অনলাইন প্লাটফর্মে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।জরুরী প্রয়োজন ছাড়া সশরীরে সভা আয়োজন পরিহার করতে হবে যাতে জ্বলানি সাশ্রয় হয়। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত আদেশ বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠিতে অনুরোধ করা হয়।

ক্রুড বা অপরিশোধিত তেল সংকটের কারণে তেল পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির।
অপরিশোধিত তেলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায়, রোববার (১২ এপ্রিল) বিকালে শেষ পরিশোধন কার্যক্রমের পর আপাতত পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
তবে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছে জ্বালানি বিভাগ। নাম প্রকাশ না করে ইআরের একজন কর্মকর্তা স্টার নিউজকে জানান, পাঁচটি ট্যাংকের তলানিতে প্রায় ৩৩ হাজার টন ক্রুড তেল ডেস্ক ছিল। আর এসপিএম থেকে ৫ হাজার টন আনা হয়েছিল রিফাইনারিতে। এগুলো দিয়ে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। কিন্তু এটি অনিরাপদ অপারেশন। কারণ ডেস্কে ময়লা-বর্জ্য জমে থাকে। এগুলো যে-কোনো সময় পাম্পে আটকে যেতে পারে। যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্তও হতে পারে। সাধারণত ট্যাংকের তলানির ১.৫ মিটারের মতো ডেস্ক ধরা হয়। রোববার বিকালে তা ১ মিটারের নিচে নেমে গেছে। ফলে আর তা ব্যবহার উপযোগী নয়। আর ডেস্কের তেলে থাকা বর্জ্য, স্লাগের কারণে প্ল্যান্টের ক্ষতি হতে পারে। এসব বিবেচনায় পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে গত প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি বন্ধ রয়েছে। এ মাসের তিন তারিখ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলেও রিজার্ভে থাকা ক্রুড দিয়ে দৈনিক এক হাজারের নিচে উৎপাদন করে চলছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে এই মাসের ১৮ তারিখ মালয়েশিয়া থেকে এক টনের একটি চালান দেশে আনার কথা জানিয়েছে বিপিসি। এছাড়াও আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে ক্রুডের আরও একটি চালান দেশে আসবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই জ্বালানি আসার আগে এই উৎপাদন কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ইআরএল কর্মকর্তারা।
বিপিসির তথ্যমতে, দেশে প্রতি বছর ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ বেশি। প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে, যা ইআরএলে পরিশোধন করা হয়। এলপিজি, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন, ডিজেল ও ফার্নেসসহ ১৩ রকমের তেল জাতীয় পণ্য উৎপাদন করে ইআরএল। অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ভারত ও চীন থেকে বছরে প্রায় ৪৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে বাংলাদেশ।