১২ বছরের গ্যাস মজুত অবশিষ্ট: নতুন ক্ষেত্র আবিষ্কারে ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা

ছবি- সংগৃহীত
বাংলাদেশের বর্তমান প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত এবং ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে জাতীয় সংসদে উদ্বেগের পাশাপাশি আশার কথা শুনিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশাররফ হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে বর্তমান সরবরাহ হার বজায় রেখে অবশিষ্ট গ্যাস দিয়ে মাত্র ১২ বছর দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
মন্ত্রী জানান, দেশে উত্তোলনযোগ্য প্রাকৃতিক গ্যাসের মোট মজুত ছিল আনুমানিক ২৯.৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। এর মধ্যে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ২২.১১ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের শুরু থেকে দেশে অবশিষ্ট মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭.৬৩ টিসিএফ।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পেট্রোবাংলার মাধ্যমে ধাপে ধাপে ১০০টি কূপ খননের বিশাল পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৬টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকিগুলোর কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান।
নতুন গ্যাস সম্পদ অনুসন্ধানে সিসমিক জরিপের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। মন্ত্রী জানান, বাপেক্স ইতোমধ্যে ৩ হাজার ৬০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক ডাটা সংগ্রহ করেছে। এছাড়া ভোলা, জামালপুর, হবিগঞ্জ ও বাখরাবাদসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ৩ডি সিসমিক জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিতাস, নরসিংদী ও কৈলাশটিলার মতো ক্ষেত্রগুলোতেও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে অনুসন্ধান জোরদার করা হচ্ছে। সরকারের এই বহুমুখী উদ্যোগ সফল হলে দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









