মেসেজে ‘কবুল’ বললেই কি বিয়ে সম্পন্ন হয়? ইসলাম কী বলে

ছবিঃ সংগৃহীত
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমোতে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া এবং ‘কবুল’ বলার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। এতে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, অনলাইনে এভাবে ইজাব-কবুল করলে কি ইসলাম অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হয়?
ইসলামি শরিয়াহ ও ফিকাহ শাস্ত্র অনুযায়ী, বিয়ের জন্য শুধু লিখিত বা বার্তায় সম্মতি জানানো যথেষ্ট নয়। শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের অন্যতম মৌলিক শর্ত হলো ইজাব-কবুল একই বৈঠকে বা একই মজলিসে সরাসরি সম্পন্ন হওয়া। অর্থাৎ পাত্র ও পাত্রী বা তাদের বৈধ প্রতিনিধিকে একত্রে উপস্থিত থেকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া এবং তা গ্রহণ করতে হয়। শরিয়াহ অনুযায়ী আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো সাক্ষীর উপস্থিতি। বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য অন্তত দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষী থাকতে হবে, যারা সরাসরি ইজাব-কবুল শুনবেন। সহিহ ইবনে হিব্বানের বর্ণনায়ও বলা হয়েছে, অভিভাবক এবং ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীদের উপস্থিতি ছাড়া বিয়ে সম্পন্ন হয় না।
এই প্রেক্ষাপটে অনলাইনে মেসেজের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠিয়ে ‘কবুল’ লেখা হলেও তা বিয়ের পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় প্রক্রিয়া হিসেবে গণ্য হয় না। কারণ এতে একই মজলিসে উপস্থিত থাকা এবং সরাসরি সাক্ষীদের শর্ত পূরণ হয় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল একটি সম্মতি বা আলোচনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, কিন্তু বৈধ বিয়ে হিসেবে স্বীকৃতি পায় না। তবে জনসমক্ষে বা মসজিদে উপস্থিত লোকজনের সামনে ইজাব-কবুল সম্পন্ন হলে, উপস্থিত সবাই সাক্ষীর মর্যাদা পান এবং সেই বিয়ে শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধ হিসেবে গণ্য হয়।
সব মিলিয়ে ইসলামি বিধান অনুযায়ী, বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় চুক্তি, যা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করলে অনলাইনে কেবল বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় না।

Desk Report
© 2026 Prime Tv. All rights reserved.









