• সংরক্ষিত আসনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন তাসনিম জারা: সংসদে গেলে জনগণের ভোটেই যাবেন তিনি
• ফতুল্লায় গুদারাঘাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষঃ আহত ৫
•অনলাইন প্রতারণার নতুন ফাঁদ: ‘বুলসুক’ কোম্পানির বিরুদ্ধে কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, নেপথ্যে তৌহিদ-ইমন গং!
•সিন্ডিকেটের হাতে জনগণকে জিম্মি হতে দেবে না সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
•গ্রাফিতিতে গুপ্ত লেখা’কে কেন্দ্র করে, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ
•স্থায়ীভাবে ইরান যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে এবার মার্কিন সেনাদের বিক্ষোভ
•বস্ত্র ও পাট খাতে নতুন প্রাণের সঞ্চার, সচল হতে যাচ্ছে বন্ধ মিলগুলোঃ বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী
• মনের মানুষ খুঁজতে কক্সবাজার গেলেন হিরো আলম
•পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি’র সাথে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎকার
•(ঢামেক) ছাত্রী কমন রুম থেকে এপ্রোন ও স্টেথোস্কোপসহ এক ভুয়া শিক্ষার্থীকে আটক
•এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলো প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী
•মুক্তি পাওয়ার আগেই ২৫০ কোটি টাকা আয় করেছে ‘কিং’ সিনেমা
•এই সপ্তাহেই তৈরি হবে এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন : শিক্ষামন্ত্রী
•বাংলাদেশের ‘আলী’ জার্মানিতে পুরস্কার জিতল
•ইতালির রাষ্ট্রদূতের সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক: দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহী ইতালি
• যৌন হয়রানি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে বিপাকে অভিনেত্রী হানসিকা মোতওয়ানি
•ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা
•মে দিবসে মঞ্চে আসছে আরণ্যকের ‘রাঢ়াঙ’
•অস্ত্র রপ্তানি উন্মুক্ত করল জাপান: যুদ্ধজাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্র যাচ্ছে ১৭ দেশে
•সবচেয়ে বেশি বয়সী মুরগির স্বীকৃতি পেলো ‘গার্টি’
• সংরক্ষিত আসনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন তাসনিম জারা: সংসদে গেলে জনগণের ভোটেই যাবেন তিনি
• ফতুল্লায় গুদারাঘাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষঃ আহত ৫
•অনলাইন প্রতারণার নতুন ফাঁদ: ‘বুলসুক’ কোম্পানির বিরুদ্ধে কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, নেপথ্যে তৌহিদ-ইমন গং!
•সিন্ডিকেটের হাতে জনগণকে জিম্মি হতে দেবে না সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
•গ্রাফিতিতে গুপ্ত লেখা’কে কেন্দ্র করে, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ
•স্থায়ীভাবে ইরান যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে এবার মার্কিন সেনাদের বিক্ষোভ
•বস্ত্র ও পাট খাতে নতুন প্রাণের সঞ্চার, সচল হতে যাচ্ছে বন্ধ মিলগুলোঃ বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী
• মনের মানুষ খুঁজতে কক্সবাজার গেলেন হিরো আলম
•পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি’র সাথে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎকার
•(ঢামেক) ছাত্রী কমন রুম থেকে এপ্রোন ও স্টেথোস্কোপসহ এক ভুয়া শিক্ষার্থীকে আটক
•এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলো প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী
•মুক্তি পাওয়ার আগেই ২৫০ কোটি টাকা আয় করেছে ‘কিং’ সিনেমা
•এই সপ্তাহেই তৈরি হবে এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন : শিক্ষামন্ত্রী
•বাংলাদেশের ‘আলী’ জার্মানিতে পুরস্কার জিতল
•ইতালির রাষ্ট্রদূতের সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক: দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহী ইতালি
• যৌন হয়রানি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে বিপাকে অভিনেত্রী হানসিকা মোতওয়ানি
•ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা
•মে দিবসে মঞ্চে আসছে আরণ্যকের ‘রাঢ়াঙ’
•অস্ত্র রপ্তানি উন্মুক্ত করল জাপান: যুদ্ধজাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্র যাচ্ছে ১৭ দেশে
•সবচেয়ে বেশি বয়সী মুরগির স্বীকৃতি পেলো ‘গার্টি’


ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে নতুন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও ইরান কিছুটা কৌশল বা চালাকি করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কঠোর এবং কোনো ধরনের চাপ বা ব্ল্যাকমেইল সহ্য করা হবে না।
আজ শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তবে তারা কিছুটা চালাকি দেখাচ্ছে, যা তারা গত ৪৭ বছর ধরেই করে আসছে। তিনি আরও বলেন, আলোচনার পরিবেশ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং কোনোভাবেই নিজেদের অবস্থান থেকে পিছপা হবে না। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে, এমন ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, তারা আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা তারা অতীতেও করেছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রকে কোনোভাবেই চাপের মুখে আনা যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং অনেক মানুষ তাদের কারণে প্রাণ হারিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাও এর শিকার হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিনের শেষ নাগাদ জানানো হতে পারে। তবে এখনই যুক্তরাষ্ট্রের নীতি স্পষ্ট, আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
সূত্র: আল–জাজিরা

আগামী বুধবার, ২২ এপ্রিলের মধ্যে কোনো চুক্তি না হলে ইরানে আবারও বোমা হামলা শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শুক্রবার, এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি হয়তো যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াবেন না। একই সঙ্গে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধও বহাল থাকবে। তার ভাষায়, একদিকে অবরোধ চলবে, অন্যদিকে পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে আবারও হামলা শুরু করতে হতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চলছে, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বুধবার। এই সময়ের মধ্যেই সমঝোতায় পৌঁছাতে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দুই দেশ। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তানে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসতে পারেন।
এর মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। ইরান জানিয়েছে, শর্তসাপেক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে আবারও এটি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি ইরানের অনুমতির ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, বর্তমান যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই প্রণালিটি খোলা রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে, সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ মুহূর্তের আলোচনায় দুই দেশ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কিনা, নাকি আবারও সংঘাতের পথে এগোয় পরিস্থিতি।

দীর্ঘদিনের সংঘাত ও বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে এক ঐতিহাসিক কূটনৈতিক আলোচনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে লেবানন ও ইসরায়েল। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে আজ বৃহস্পতিবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন-এর সঙ্গে ফোনালাপ করতে যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য গালিয়া গামলিয়েল আজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রচণ্ড চাপের মুখে ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে। বুধবার রাতে নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা এ নিয়ে জরুরি বৈঠকও করেছে। মন্ত্রী গালিয়া গামলিয়েল রেডিওকে বলেন, এত বছরের বিচ্ছিন্নতার পর দুই দেশের মধ্যে এই কথোপকথন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আশা করা যায়, এই পদক্ষেপ দুই দেশ’কে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাবে।
যদিও লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে শুরুতে এমন কোনো যোগাযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বলছে, এর নেপথ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা চলছে। এই ফোনালাপ সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এক যুগান্তকারী মোড় হিসেবে তা চিহ্নিত হবে।
এই আলোচনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয় মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে। গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) নিজের প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ট্রাম্প লিখেছিলেন, "ইসরায়েল ও লেবাননের নেতারা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) আলোচনায় বসবেন।" এরপরই আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এবং লেবাননের প্রেসিডেন্টের সাথে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ত্রিপক্ষীয় ফোনালাপে যুক্ত হতে পারেন।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়ার মধ্যে কয়েক দিনের ব্যবধানে আরও কয়েক হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, এই সেনা মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের ওপর চাপ বাড়ানো এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি রাখা।
বর্তমানে যে সেনাদের পাঠানো হচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ বিমানবাহী রণতরি এবং তার নিরাপত্তায় থাকা যুদ্ধজাহাজগুলোর প্রায় ৬ হাজার নৌসেনা। এছাড়া আরও প্রায় ৪ হাজার ২০০ মেরিন সদস্যও এই মোতায়েনের অংশ হিসেবে যুক্ত হচ্ছেন।
সব মিলিয়ে চলতি মাসের শেষ দিকে নতুন এই বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। নতুন বাহিনী যোগ হলে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি পারমাণবিক চুক্তিতে আনতে চাপ দিচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান যদি চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
সম্প্রতি ট্রাম্প ইরানের বন্দর ব্যবহার ও নৌ চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও কৌশলগত চাপ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, অবরোধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগরসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায়, তবে সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কূটনৈতিক ও সামরিক দুই ধরনের চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা বাড়বে।
সব মিলিয়ে, ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখন আরও স্পষ্টভাবে সংঘাতমুখী পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশের অর্থনীতি নতুন করে বড় চাপের মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক অবস্থানপত্র অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার বৈদেশিক ঋণ চাওয়া হচ্ছে। এই অর্থ আগামী চার মাসের জ্বালানি, সার ও খাদ্য আমদানি ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা হবে। সরকারি হিসাবে শুধু ভর্তুকি খাতেই অতিরিক্ত প্রয়োজন পড়ছে প্রায় ৩৮ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। ফলে মোট ভর্তুকির চাপ দাঁড়াবে প্রায় ৯৭ হাজার ৫৪২ কোটি টাকায়, যা বাজেট বরাদ্দের তুলনায় অনেক বেশি। এতে বাজেট ঘাটতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই ঋণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা, জ্বালানি ও সার আমদানি নিশ্চিত করা এবং বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। সূত্র অনুযায়ী, সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম প্রায় আড়াই গুণ, এলএনজির দাম দ্বিগুণ এবং সারের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর ফলে আমদানি ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, রিজার্ভও আবার চাপের মুখে পড়েছে এবং মার্চে তা কমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈশ্বিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব আরও গভীর হবে এবং তা মূল্যস্ফীতি, আমদানি ব্যয় ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে কমোডিটি ট্রেডিং বা পণ্য বাণিজ্য খাত বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অলিভার ওয়াইম্যানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যেই শীর্ষ ট্রেডিং হাউজগুলোকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের লোকসান গুনতে হয়েছে।
সাধারণত যুদ্ধ বা অস্থিরতার সময় বাজারে বড় অংকের মুনাফা করে থাকে এসব প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এবার ঘটেছে তার উল্টো। পারস্য উপসাগরে শতাধিক জ্বালানি তেলের ট্যাংকার আটকে পড়ায় তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করেই অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যা অনেক ট্রেডারের পূর্বাভাসের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্থিরতার মধ্যে সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে ‘মার্জিন কল’। ফিউচার মার্কেটে দাম কমার প্রত্যাশায় নেওয়া অবস্থান হঠাৎ উল্টে যাওয়ায় ট্রেডিং হাউজগুলোকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জমা দিতে হয়েছে, যা তাদের তারল্য সংকট আরও বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া চুক্তিভিত্তিক সরবরাহ ঠিক রাখতে গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানকে বাজার থেকে চড়া দামে বিকল্প তেল কিনতে হয়েছে, ফলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। ভিটল, ট্রাফিগুরা ও মারকিউরিয়ার মতো শীর্ষ কোম্পানিগুলোও শুরুতে বড় লোকসানের মুখে পড়ে, যদিও পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।
অলিভার ওয়াইম্যানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে কমোডিটি ট্রেডিং খাতে রেকর্ড মুনাফা হলেও পরবর্তী বছরগুলোতে তা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। তবে চলমান সংঘাত সেই অনিশ্চয়তাকে আরও গভীর করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি স্থায়ী অনিশ্চয়তার উৎস হয়ে উঠেছে। ফলে বড় ট্রেডিং হাউজগুলোকে বাড়তি মূলধন ও ঋণ সুবিধার ওপর নির্ভর করে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত শুধু রাজনৈতিক নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য বাজারেও এক নতুন অস্থিরতার অধ্যায় তৈরি করেছে।

বিশ্বজুড়ে নতুন করে অর্থনৈতিক শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সতর্ক করে বলেছে, ইরান যুদ্ধের উত্তাপ আরও বাড়লে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়তে পারে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ইতোমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে আইএমএফ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্বালানির দাম যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এমনকি ১৯৮০ সালের পর পঞ্চমবারের মতো বিশ্ব অর্থনীতি বড় মন্দার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াতে পারে মাত্র শূন্য দশমিক আট শতাংশে, আর মূল্যস্ফীতি পৌঁছাতে পারে চার শতাংশে।
এদিকে এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে দায়ী করেছেন ব্রিটিশ চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস। তিনি বলেন, সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও পরিকল্পনা ছাড়া যুদ্ধে জড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের বড় ভুল। আইএমএফ আরও জানিয়েছে, জ্বালানি আমদানিকারক ও উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়ে দুই দশমিক তিন শতাংশে নামানো হয়েছে।
সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ সতর্ক করে বলেছেন, যদি তেলের দাম দীর্ঘসময় উচ্চ অবস্থায় থাকে, তাহলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে দুই শতাংশে। যা কার্যত বিশ্বমন্দার সমতুল্য। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি যুদ্ধ বন্ধের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আইএমএফ।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আরও জোরালো হচ্ছে। পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের পর এবার লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালি নিয়েও তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বন্দর অবরোধের পরিকল্পনার জবাবে ইরান লোহিত সাগরের নৌপথও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়াতে এবং বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে ট্রাম্প প্রশাসনকে আলোচনার টেবিলে ফেরার জন্য ব্যাপক চাপ দিচ্ছে সৌদি আরব।
প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে। রিয়াদের মতে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে বন্দর অবরোধ করা হলে তেহরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথগুলোতে বিঘ্ন ঘটাবে।
যুদ্ধের প্রভাবে ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সৌদি আরব বর্তমানে মরুভূমি পেরিয়ে বিকল্প পথে লোহিত সাগর দিয়ে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করছে। কিন্তু ইরান যদি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ব্যবহার করে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তবে সৌদি আরবের এই শেষ বিকল্পটিও বন্ধ হয়ে যাবে। এতে চরম ঝুঁকিতে পড়বে দেশটির অর্থনীতি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা বাব আল-মান্দেবকে হরমুজের মতোই গুরুত্ব দেন। এক হুশিয়ারিতে তিনি বলেন, "হোয়াইট হাউস ভুল করলে খুব দ্রুত বুঝতে পারবে এক ইশারাতেই বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য প্রবাহ ব্যাহত করা সম্ভব।" এছাড়া ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে ওই অঞ্চলের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।
এদিকে সোমবার থেকেই ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে বদ্ধপরিকর এবং উপসাগরীয় মিত্ররা তাদের সঙ্গেই আছে। যদিও সৌদি আরবের বর্তমান অবস্থান ওয়াশিংটনের এই দাবির সাথে কিছুটা সাংঘর্ষিক।
নিউ আমেরিকার বিশেষজ্ঞ অ্যাডাম ব্যারনের মতে, লোহিত সাগরে বিঘ্ন ঘটাতে ইরান হুথিদের ব্যবহার করবে, যারা ইতিমধ্যেই তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজির ২০ শতাংশ যে পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই পথগুলো এখন বড় ধরনের সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে। এখন দেখার বিষয়, সৌদি আরবের মধ্যস্থতা এবং আলোচনার আহ্বান ট্রাম্প প্রশাসন গ্রহণ করে কি না, নাকি মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকটের দিকে ধাবিত হয়।