মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে কমোডিটি ট্রেডিং বা পণ্য বাণিজ্য খাত বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অলিভার ওয়াইম্যানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যেই শীর্ষ ট্রেডিং হাউজগুলোকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের লোকসান গুনতে হয়েছে।

সাধারণত যুদ্ধ বা অস্থিরতার সময় বাজারে বড় অংকের মুনাফা করে থাকে এসব প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এবার ঘটেছে তার উল্টো। পারস্য উপসাগরে শতাধিক জ্বালানি তেলের ট্যাংকার আটকে পড়ায় তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করেই অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যা অনেক ট্রেডারের পূর্বাভাসের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্থিরতার মধ্যে সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে ‘মার্জিন কল’। ফিউচার মার্কেটে দাম কমার প্রত্যাশায় নেওয়া অবস্থান হঠাৎ উল্টে যাওয়ায় ট্রেডিং হাউজগুলোকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জমা দিতে হয়েছে, যা তাদের তারল্য সংকট আরও বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া চুক্তিভিত্তিক সরবরাহ ঠিক রাখতে গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানকে বাজার থেকে চড়া দামে বিকল্প তেল কিনতে হয়েছে, ফলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। ভিটল, ট্রাফিগুরা ও মারকিউরিয়ার মতো শীর্ষ কোম্পানিগুলোও শুরুতে বড় লোকসানের মুখে পড়ে, যদিও পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।

অলিভার ওয়াইম্যানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে কমোডিটি ট্রেডিং খাতে রেকর্ড মুনাফা হলেও পরবর্তী বছরগুলোতে তা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। তবে চলমান সংঘাত সেই অনিশ্চয়তাকে আরও গভীর করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি স্থায়ী অনিশ্চয়তার উৎস হয়ে উঠেছে। ফলে বড় ট্রেডিং হাউজগুলোকে বাড়তি মূলধন ও ঋণ সুবিধার ওপর নির্ভর করে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত শুধু রাজনৈতিক নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য বাজারেও এক নতুন অস্থিরতার অধ্যায় তৈরি করেছে।